আমেরিকার শর্তে মাথানত নয়! ইরান-মার্কিন চুক্তির নেপথ্যে বিস্ফোরক দাবি খামেনেইয়ের

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ১৪ দফার ঐতিহাসিক সমঝোতাপত্র (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার পরই মুখ খুললেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনেই। চুক্তি সইয়ের পর প্রথমবার জনসমক্ষে এসে তাঁর দাবি, এই চুক্তির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই সবচেয়ে বেশি ‘মরিয়া’ ছিলেন এবং তেহরানের ওপর সবরকমের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
চুক্তি সইয়ের নেপথ্যের সত্য?
এতদিন চুক্তি নিয়ে নীরব থাকলেও, সই সম্পন্ন হওয়ার পর খামেনেই বোমা ফাটালেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইরান ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মধ্যে এই সমঝোতা পৌঁছানোর পেছনে আমাদের আধিকারিকদের কঠোর পরিশ্রম ছিল ঠিকই, কিন্তু সত্যটা হলো—আমেরিকান প্রেসিডেন্টই মরিয়া হয়ে সবরকমভাবে চাপ দিয়ে এই চুক্তি করিয়েছেন।”
তাঁর মতে, আমেরিকার তরফ থেকেই এই আলোচনার উদ্যোগ বেশি ছিল। ইরান চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তেহরানের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের স্বার্থরক্ষা এবং ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর অধিকার নিশ্চিত করা।
খামেনেই-এর শর্ত ও হুঁশিয়ারি
চুক্তির কাঠামোকে সমর্থন করলেও, ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। তিনি বলেন:
শত্রুর অবস্থান নয়: ভবিষ্যতে মুখোমুখি আলোচনার অর্থ এই নয় যে ইরান আমেরিকার শর্ত মেনে নিয়েছে বা শত্রুর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
দায়বদ্ধতা: এই চুক্তির জন্য তিনি প্রথমে রাজি ছিলেন না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যরা তাঁকে নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের মানুষের অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হবে না। তাঁদের প্রতি ভরসা রেখেই তিনি অনুমতি দিয়েছেন।
মাথা নত না করার অঙ্গীকার: প্রেসিডেন্ট তাঁকে কথা দিয়েছেন যে, আমেরিকানরা যদি কোনো অতিরিক্ত দাবি বা বাড়াবাড়ি করে, তবে ইরানের প্রতিনিধিরা কোনোভাবেই মাথা নত করবেন না।
চুক্তির পরবর্তী ধাপ
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়ালি এই চুক্তিতে সই করেছেন। এর ফলে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়া হয়েছে এবং উত্তেজনা কমানোর একটি প্রাথমিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করলেও, খামেনেই-এর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ভবিষ্যতে ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের সমীকরণ যে খুব একটা সহজ হবে না, তা স্পষ্ট করে দিল।