ছাপ্পান্ন বছরে রাহুল গান্ধী, রাজনীতিতে উত্থান-পতনের এক লড়াকু অধ্যায়, জানুন নেতার অজানা কাহিনী!

ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম চর্চিত মুখ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ৫৬তম জন্মদিন। ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের প্রবীণ এই নেতাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। আজকের এই বিশেষ দিনে ফিরে দেখা যাক রাজীব-সনিয়া তনয়ের ব্যক্তিগত জীবন থেকে রাজনৈতিক সংগ্রামের রোমাঞ্চকর সব মুহূর্ত।

১৯৭০ সালের ১৯ জুন নয়াদিল্লিতে জন্ম রাহুল গান্ধীর। স্বাধীন ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং ফিরোজ গান্ধীর পৌত্র তিনি। রাহুলের পড়াশোনার জীবন বেশ ঘটনাবহুল। দিল্লির সেন্ট স্টিফেনস কলেজ থেকে যাত্রা শুরু করে তিনি পাড়ি জমান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে পিতার অকাল মৃত্যুর পর নিরাপত্তার খাতিরে পরিচয় লুকিয়ে ফ্লোরিডার রলিন্স কলেজ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯৫ সালে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজ থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এই গোপনীয়তা বজায় রাখা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তাকেই প্রকাশ করে।

২০০৪ সালে আমেঠি থেকে নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ২০১৭ সালে সনিয়া গান্ধীর হাত থেকে কংগ্রেসের ব্যাটন গ্রহণ করেন তিনি। তবে সময়টা সহজ ছিল না। দেশজুড়ে প্রবল মোদী ঢেউয়ের বিপরীতে দাঁড়িয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছে কংগ্রেস। ২০১৯ সালের পরাজয়ের পর সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলেও তিনি লড়াই ছাড়েননি। সবথেকে উল্লেখযোগ্য মোড় আসে ২০২৩ সালে, যখন তিনি দক্ষিণের কন্যাকুমারী থেকে ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’ শুরু করেন।

কঠোর শীতের মধ্যেও সাদা টি-শার্ট পরে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া রাহুল গান্ধী যেন এক নতুন ভাবমূর্তিতে আবির্ভূত হন। “নফরত কে বাজার মে মহব্বত কি দোকান খোলনি হ্যায়”—তাঁর এই বার্তা সাধারণ মানুষের মনে গভীর দাগ কাটে। গত দুই দশকে এটিই ছিল ভারতের কোনো শীর্ষ নেতার করা দীর্ঘতম ও সফলতম জনমুখী পদযাত্রা।

সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন ছিল দেখার মতো। বিশেষ করে অমেঠি ও রায়বেরেলির মতো ঐতিহ্যের আসনগুলোতে জয় এবং মোট ৬টি আসনে জয়লাভ প্রমাণ করে যে রাহুলের কৌশল এবং তাঁর সহনশীল রাজনীতি মাঠে কাজ করছে। রাহুলের সরলতা, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মেলবন্ধন এবং সংকটের মুহূর্তে অবিচল থাকার ক্ষমতা তাঁকে আজকের ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। ৫৬ বছরে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী এখন কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে এক ধৈর্যের প্রতীক। তাঁর আগামী দিনের রাজনৈতিক পথচলা ভারতের গণতন্ত্রের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা সময়ই বলে দেবে। জন্মদিনে দেশজুড়ে কংগ্রেস কর্মীরা এবং তাঁর সমর্থকরা পালন করছেন এই বিশেষ দিনটি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *