হাইওয়ে ও মেইন রোডে টোটো চলাচলে কড়াকড়ি! পুলিশকে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ পরিবহণ দফতরের

হাইওয়ে এবং শহরের ব্যস্ত প্রধান রাস্তাগুলিতে ই-রিকশা বা টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। এতদিন নির্দিষ্ট নিয়ম থাকলেও তার সঠিক প্রয়োগ বা কার্যকরীকরণ হচ্ছিল না বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবার অত্যন্ত কঠোর হাতে এই বিষয়টির মোকাবিলা করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ পাঠাল পরিবহণ দফতর। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, হাইওয়ে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তায় টোটো বা ই-রিকশা চলাচলের নিষেধাজ্ঞা যেন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।
কেন এই কড়াকড়ি?
শনিবার পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো একটি বিশেষ চিঠিতে পরিবহণ দফতরের প্রধান সচিব রবি ইন্দর সিং উল্লেখ করেছেন যে, ই-রিকশা মূলত ‘লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি’ বা সাধারণ যাত্রীদের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবার জন্যই তৈরি। বর্তমান সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, অত্যন্ত স্পষ্টভাবেই প্রধান সড়কগুলিতে ই-রিকশা বা টোটোর চলাচল নিষিদ্ধ করা রয়েছে।
পরিবহণ দফতরের কাছে সম্প্রতি একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছিল যে, সমস্ত সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতীয় সড়ক (National Highway), রাজ্য সড়ক (State Highway) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জংশনগুলিতে অবাধে টোটো চলাচল করছে। এর জেরে একদিকে যেমন নিত্যদিনের ব্যস্ত রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে পথ নিরাপত্তা নিয়েও প্রতিনিয়ত বড়সড় উদ্বেগ বাড়ছে।
কী বলছে পুরনো নিয়ম?
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই রাজ্য সরকারের তরফে জারি করা একটি মেমোরেন্ডাম অনুযায়ী, ই-রিকশাগুলি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ও ছোট স্থানীয় রাস্তাগুলিতেই চলাচল করতে পারে। বিশেষ অনুমতি না থাকলে কোনোভাবেই ন্যাশনাল হাইওয়ে, রাজ্য সড়ক বা প্রধান ট্রাফিক রুটগুলিতে এগুলি চালানো যাবে না।
পরিবহণ দফতরের তরফে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, অধস্তন সমস্ত পুলিশ আধিকারিককে এই সংক্রান্ত গাইডলাইন বুঝিয়ে দিতে হবে এবং দ্রুত তা মাঠে নেমে কার্যকর করতে হবে। কোনো চালক বা মালিক এই নির্দেশ অমান্য করলে মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট, ১৯৮৮ (Motor Vehicles Act, 1988) এবং তার আওতাধীন নিয়মের অধীনে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবহণ দফতরের এক সিনিয়র আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে দেখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ঠিক কত সংখ্যক টোটো বা ই-রিকশা চলছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান বা ডেটা পরিবহণ দফতরের হাতে না থাকলেও, এই সংখ্যাটা যে কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে, তা একপ্রকার নিশ্চিত।