১৬ বছরের প্রেমিকাকে বেচে দিল যুবক, সোনাগাছি থেকে উদ্ধার কিশোরী

খাস কলকাতার সোনাগাছি রেড লাইট এরিয়া থেকে এক ১৬ বছরের কিশোরীকে উদ্ধার করাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার পর ওই কিশোরীকে এক ব্যক্তির কাছে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়েছিল বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে খবর পৌঁছানোর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে ওই নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই কিশোরীকে সোনাগাছির একটি ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ হেল্পলাইনে ফোন এবং চাইল্ড হেল্পলাইনের মাধ্যমে ই-মেল পাওয়ার পরই বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কিশোরীকে উদ্ধারের পাশাপাশি এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শফিকুল মোল্লা (২০) এবং সাহারুল লস্কর (৩৯) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
কী জানা যাচ্ছে তদন্তে?
এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, কিশোরীর নিখোঁজ বা বন্দি থাকার তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বড়বাজার থানার একটি বিশেষ দল সোনাগাছি এলাকায় ঝটিকা তল্লাশি শুরু করে। মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সফলভাবে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে ওই কিশোরী জানিয়েছে যে, শফিকুল মোল্লার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই যুবকের হাত ধরেই সে বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় চলে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে সোনাগাছিতে এনে সাহারুল লস্করের কাছে তাঁকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ নির্যাতিতা কিশোরীর পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত শফিকুল মোল্লার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগরের গারুলিয়া এলাকায়। অন্যদিকে, অপর অভিযুক্ত সাহারুল লস্কর কলকাতার দুর্গাচরণ মিত্র স্ট্রিটের বাসিন্দা। বর্তমানে ধৃত দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই নৃশংস ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং কঠোর পকসো (POCSO) আইনে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।