শান্তিনিকেতনে গিয়েও মিস করছেন? বোলপুরের এই ‘লুকোনো রত্ন’ না দেখলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ!

লাল মাটির দেশ, রবি ঠাকুরের প্রিয় বোলপুর-শান্তিনিকেতন—নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশ্বভারতী প্রাঙ্গণ, ছাতিমতলা কিংবা সোনাঝুরির হাট। কিন্তু পর্যটকদের চেনা গণ্ডির বাইরেও শান্তিনিকেতনের বুকে লুকিয়ে আছে এক অনবদ্য গন্তব্য, যার নাম ‘সৃজনী শিল্পগ্রাম’। বিশ্বভারতীর কলাভবন থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শিল্পগ্রামটি অনেকের কাছেই এখনও এক অজানা বিস্ময়।

কেন যাবেন সৃজনী শিল্পগ্রামে?
এই শিল্পগ্রাম কেবল ঘোরার জায়গা নয়, এটি যেন এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির শিল্প, জীবনধারা এবং সাহিত্যকর্মকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই গ্রাম তৈরি করা হয়েছিল। প্রায় ২৬ বিঘা জমি জুড়ে বিস্তৃত এই শিল্পগ্রামটি যেন এক টুকরো ভারত।

কী কী দেখার আছে? এখানে নিপুণ গবেষণার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ওড়িশা, সিকিম, আসাম, মেঘালয়, মণিপুর, ত্রিপুরা-সহ বিভিন্ন রাজ্যের মানুষের জীবনগাথা। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও আন্দামান-নিকোবরের লোকসংস্কৃতি ও জীবনশৈলীকেও এখানে দারুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

এক ঝলকে ইতিহাস ও গুরুত্ব
বোলপুরকে এই শিল্পগ্রামের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়ার পেছনে মূল কারণ ছিল—সপ্তাহে ২০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম এবং তুলনামূলক দূষণমুক্ত নির্মল পরিবেশ। ১৯৯৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ.ডি. দেবগৌড়া এবং পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন রাজ্যপাল কে.ভি. রঘুনাথ রেড্ডি এই শিল্পগ্রামের উদ্বোধন করেছিলেন।

শান্তিনিকেতনের চিরসবুজ আমেজ
বোলপুর-শান্তিনিকেতন মানেই রতনপল্লি, গুরুপল্লি, পূর্বপল্লি বা উদয়নপল্লির মতো চিরসবুজ এলাকা। বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের ভিড়েও আজও এখানে অলিগলিতে রয়ে গেছে ফুলের গাছের সমারোহ। কবিগুরুর এই প্রাণের শহরে সোনাঝুরি বা প্রান্তিকের পাশাপাশি আপনার পরবর্তী ভ্রমণ তালিকায় অবশ্যই রাখুন সৃজনী শিল্পগ্রাম।

আপনি যদি শান্তিনিকেতনের শান্ত পরিবেশের মাঝে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধন দেখতে চান, তবে এই জায়গাটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *