মন্ত্রীদের ‘ক্লাস’ নিলেন শুভেন্দু! দলীয় স্তরে প্রশিক্ষণ শিবিরে কড়া বার্তা বিজেপি নেতৃত্বের

প্রশাসনিক স্তরের পর এবার দলীয় স্তরে বিজেপির মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত হলো এক বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই কর্মশালায় মন্ত্রীদের ‘মন্ত্রিত্বের পাঠ’ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনশল, সহকারী পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য এবং রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
প্রশিক্ষণ শিবিরে মন্ত্রীদের যে নির্দেশ দেওয়া হলো:
সূত্রের খবর, এই দলীয় কর্মশালায় মন্ত্রীদের কাজের গতি বাড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
ফান্ড যেন ফেরত না যায়: উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দ কোনো তহবিল বা ফান্ড যেন কোনোভাবেই খরচ না হয়ে ফিরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
দাবি ও সুপারিশের দ্রুত সমাধান: জেলার কোর কমিটি এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসা দাবি বা সুপারিশগুলি খতিয়ে দেখে মন্ত্রীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।
সমন্বয় ও নিরপেক্ষতা: দলের সাথে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কাজে এমন স্বচ্ছতা রাখতে হবে যাতে বিরোধীরা নিরপেক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ না পায়।
কেন্দ্রীয় প্রকল্প: কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন যেন কোনোভাবেই বিলম্বিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে।
কেন এই কর্মশালা?
নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সুশাসন এবং দলের আদর্শ সম্পর্কে ধারণা দিতেই এই কর্মশালার আয়োজন। ফাইলের দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়া থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সঠিক রূপায়ণ এবং দপ্তর পরিচালনার খুঁটিনাটি বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত শনিবার প্রশাসনিক স্তরে প্রশিক্ষণের পর, এবার দলের অন্দরে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বৈঠক
প্রশিক্ষণ শিবিরের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য সফরকে কেন্দ্র করে বিজেপির এক বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী (বিরোধী দলনেতা) শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকসহ দলের শীর্ষ পদাধিকারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি যাতে সফল হয় এবং যাবতীয় ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।