সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো ছবির ফাঁদ, এক ক্লিকেই পর্দাফাঁস! গুগলের এই নতুন ম্যাজিক ট্রিকস না জানলে পস্তাবেন!

দিন দিন প্রযুক্তির যেমন উন্নতি হচ্ছে, ঠিক তেমনই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার প্রতারকদের দাপট। বর্তমানে ফেসবুক, টুইটার (এক্স), ইনস্টাগ্রাম বা লিঙ্কডইনের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়ো প্রোফাইল তৈরি করে মিথ্যা খবর ছড়ানো এবং সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এমন নিখুঁত প্রোফাইল পিকচার তৈরি করা হয়, যা দেখে আসল-নকল চেনা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তবে এবার ল্যান্ড মাফিয়া বা সাইবার মাফিয়াদের এই জালিয়াতি রুখতে প্রযুক্তির পিঠেই কামড় দিল প্রযুক্তি! মাত্র কয়েক ক্লিকেই ভুয়ো প্রোফাইল ছবি চিনে নেওয়ার দুর্দান্ত হাতিয়ার নিয়ে এল গুগল ক্রোম।
ভি৭ ল্যাবসের হাত ধরে এল নতুন এআই সংহারক
বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি ‘ভি৭ ল্যাবস’ (V7 Labs) ভিজ্যুয়াল কাজকে স্বয়ংক্রিয় করতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স ভিত্তিক একটি যুগান্তকারী সফটওয়্যার তৈরি করেছে। গুগল ক্রোমের একটি সাধারণ এক্সটেনশন (Chrome Extension) হিসেবে ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারবেন। এই এক্সটেনশনের প্রধান কাজই হলো ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়ানো কৃত্রিমভাবে তৈরি (AI-Generated) বা চুরির ছবি মুহূর্তের মধ্যে শনাক্ত করা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন এই ফিচার?
সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও প্রোফাইলের ছবি দেখে যদি আপনার মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ জাগে, তবে এই এক্সটেনশনটি ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
প্রথমে যে ছবিটির সত্যতা যাচাই করতে চান, সেটির ওপর মাউসের রাইট ক্লিক (Right Click) করুন।
এরপর ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে ‘Check Fake Profile Picture’ অপশনটি বেছে নিন।
ব্যাস! চোখের পলকে স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ওই প্রোফাইলের ছবিটি আসল নাকি ভুয়ো।
ভিডিওতে মিলল অকাট্য প্রমাণ, জব্দ হবে ল্যান্ড মাফিয়া ও স্ক্যামাররা
ভি৭ ল্যাবসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আলবার্তো রিজোলি জানিয়েছেন, অনলাইনে ভুয়ো তথ্য এবং ফেক নিউজের রমরমা ব্যবসা বন্ধ করতেই এই বিশেষ এআই সফটওয়্যারটি তৈরি করা হয়েছে। রিজোলির শেয়ার করা একটি ডেমো ভিডিওতে দেখা গেছে, কীভাবে এই এক্সটেনশনটি একটি ‘ফেক ডিটেক্টর’ হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি পেশাদারদের প্ল্যাটফর্ম ‘লিঙ্কডইন’-এ যুক্ত হওয়া একটি নতুন প্রোফাইলের ছবি এই এক্সটেনশন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সফটওয়্যারটি নিখুঁতভাবে প্রমাণ করে দেয় যে প্রোফাইলটি সম্পূর্ণ জাল ছিল।
আমজনতা থেকে সেলিব্রিটি— সবার সুরক্ষাকবচ
সফটওয়্যারের নির্মাতারা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করছেন যে, এই ক্রোম এক্সটেনশনটি বাজারে আসার পর জাল খবর ও ভুয়ো তথ্যের বিস্তার অনেকাংশে কমে যাবে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে তদন্তকারী কর্মকর্তারা খুব সহজেই ক্ষতিকারক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী প্রোফাইলগুলো খুঁজে বের করে রিপোর্ট করতে পারবেন।
বিশেষ করে টুইটার বা ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় মাধ্যমে কোনও সেলিব্রিটি, প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব বা নামী সংস্থার অফিশিয়াল প্রোফাইল হুবহু নকল বা ‘ক্লোন’ করে যে ধরনের জালিয়াতির জাল ছড়ানো হয়, তা গোড়াতেই কেটে দিতে এই ক্রোম এক্সটেনশনটি আগামী দিনে সবচেয়ে বড় সহায়ক মাধ্যম হতে চলেছে।