রান্নাঘরেই লুকিয়ে বিপদ! প্রেশার কুকারের বিস্ফোরণ রুখতে জানুন ৫টি জরুরি নিয়ম

বাঙালি হেঁশেলে প্রেশার কুকার ছাড়া রান্না কল্পনা করা অসম্ভব। ডাল থেকে সবজি, যেকোনো খাবার চটজলদি রান্না করতে এটি যেমন সময় বাঁচায়, তেমনই বাঁচায় জ্বালানি। তবে মাঝে মাঝেই প্রেশার কুকার বিস্ফোরণের খবর আমাদের বেশ উদ্বিগ্ন করে তোলে। মনে রাখবেন, প্রেশার কুকার কিন্তু হুট করে বিস্ফোরিত হয় না; বরং দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা, ভুল ব্যবহার এবং ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রাংশই এর মূল কারণ।
আপনার রান্নাঘরকে নিরাপদ রাখতে এবং কুকারের আয়ু বাড়াতে এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলো মেনে চলুন:
হুইসেল ও সেফটি ভালভের দিকে নজর রাখুন: কুকারের হুইসেল ও সেফটি ভালভ নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এগুলোর ভেতর খাবার জমে বা ময়লা আটকে বাষ্প বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা বিস্ফোরণের অন্যতম প্রধান কারণ। রান্না শেষে এগুলো ঠিকঠাক পরিষ্কার করা আছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
রাবার গ্যাসকেটের যত্ন: কুকারের ঢাকনায় থাকা রাবারের রিং বা গ্যাসকেটটি ঢিলে হয়ে গেলে বা পুরনো হয়ে গেলে তা দ্রুত বদলে ফেলুন। গ্যাসকেট পুরনো হলে ঢাকনা ঠিকমতো আটকালেও ভেতরে অস্বাভাবিক চাপের সৃষ্টি হতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতি কয়েক মাস অন্তর এটি পরীক্ষা করার অভ্যাস করুন।
অতিরিক্ত ভর্তি করবেন না: তাড়াহুড়ো করে অনেকে কুকার কানায় কানায় ভর্তি করে ফেলেন। মনে রাখবেন, কুকারের ভেতর বাষ্প তৈরির জন্য পর্যাপ্ত জায়গার প্রয়োজন। তাই নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি উপকরণ দেবেন না।
সঠিক জলের পরিমাণ: কুকারের ভেতর জলের স্তর পর্যাপ্ত রাখা জরুরি। জল খুব কম থাকলে খাবার পুড়ে গিয়ে কুকারের ধাতব দেওয়ালে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যা কুকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। রান্নার উপকরণ অনুযায়ী সব সময় সঠিক পরিমাণে জল ব্যবহার করুন।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ: কুকারের হাতল, ঢাকনা এবং বডি নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যদি কুকারে কোনো চিড় দেখা দেয় বা স্ক্রু আলগা হয়ে যায়, তবে দেরি না করে তা সারিয়ে নিন বা প্রয়োজনে পরিবর্তন করুন।
শেষ কথা:
রান্নাঘরে তাড়াহুড়োর চেয়ে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এবং নিয়মিত সতর্কতাই পারে আপনার রান্নাঘরকে নিরাপদ ও ঝঞ্ঝাটহীন রাখতে। আজই আপনার কুকারটি একবার ভালো করে পরীক্ষা করে নিন।