যুদ্ধবিরতির পথে মার্কিন-ইরান! হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির পথে দুই দেশ

প্রায় ১০০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে শান্তি স্থাপনের পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশ একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছে। এই সমঝোতা বিশ্ব রাজনীতির পাশাপাশি ভারতের অর্থনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির মূল দিকসমূহ:
আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শান্তি চুক্তির দলিল স্বাক্ষরিত হবে। এই চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো—
হরমোজ প্রণালী উন্মুক্ত করা: গত সাড়ে তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম প্রধান ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।
যুদ্ধবিরতি: দুই দেশই অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধে সম্মত হয়েছে।
অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে বলে প্রাথমিক সমঝোতায় উঠে এসেছে।
ভারতের জন্য কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতের জ্বালানি চাহিদার একটি বিশাল অংশ—প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল ও বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—মধ্যপ্রাচ্য থেকে হরমুজ প্রণালী হয়ে আমদানি করা হয়। সংঘাত চলাকালীন অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় ভারতের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে তা ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ কমাবে।
সংশয় ও বাস্তবতা:
যদিও শান্তি চুক্তির এই ঘোষণাকে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ বিশ্বের বহু নেতা স্বাগত জানিয়েছেন, তবুও বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা সতর্ক। ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান গভীর মতপার্থক্যের কারণে এই চুক্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগরওয়াল জানিয়েছেন, যদি এই শান্তি চুক্তি স্থায়িত্ব পায়, তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বহু বড় চ্যালেঞ্জের অবসান ঘটবে।
বর্তমানে শিপিং সংস্থাগুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামো পুনরায় সচল হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে কূটনীতির পথে এই ফিরে আসাকে বিশ্বশান্তির জন্য এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।