সরকারি কর্মীদের বাড়িতে আগে বসবে স্মার্ট মিটার, জেনেনিন কী কী তথ্যের ভিত্তিতে?

রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীর বাড়িতে ধাপে ধাপে ‘স্মার্ট মিটার’ বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনা এবং অপচয় কমানোর লক্ষ্যেই এই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যুৎ দফতরের প্রধান সচিব এই বিষয়ে অর্থ দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকে একটি জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।

যেসব তথ্য জমা দিতে হবে সরকারি কর্মীদের গত ১০ জুন মুখ্যসচিবের জারি করা নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য কর্মীদের থেকে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে:

  • কর্মচারীর পরিচয়: এইচআরএমএস (HRMS) আইডি এবং নাম।

  • ঠিকানা: স্থায়ী এবং বর্তমান বাসস্থানের পূর্ণ ঠিকানা।

  • দফতর সংক্রান্ত: কর্মস্থলের নাম, অফিসের ঠিকানা এবং হেড অফ অফিস কোড।

  • ভাতা সংক্রান্ত: সংশ্লিষ্ট কর্মী বাড়িভাড়া ভাতা (HRA) পান কি না, তার তথ্য।

কারা অন্তর্ভুক্ত এই তালিকায়? শুধু সরাসরি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাই নন, বরং রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থা, নিগম এবং সরকারি উদ্যোগ সংস্থাগুলির কর্মীদের বাড়িতেও এই স্মার্ট মিটার বসানো হবে। এই সংস্থাগুলির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করার জন্য অর্থ দফতরের কাছে সহায়তা চেয়েছে বিদ্যুৎ দফতর।

কেন এই উদ্যোগ? প্রশাসনের শীর্ষ মহলের মতে, স্মার্ট মিটার প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ অপচয় কমবে এবং পরিষেবা আরও আধুনিক হবে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিকে ইতিমধ্যে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি তথ্যভাণ্ডার হাতে পেলেই রাজ্যজুড়ে এই মিটার বসানোর কাজ পূর্ণ গতিতে শুরু হবে।

উঠেছে প্রতিবাদের সুর সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সরকার সিদ্ধান্তে অনড়। তাঁদের দাবি, সরকারি কর্মীদের ওপর এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন।

প্রশাসনিক ও কর্মচারী—দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে স্মার্ট মিটার বসানোর এই প্রক্রিয়া কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।