আপনার গাড়ি কি E100-এ চলবে? ইথানল ফুয়েলের সুবিধা ও বড় চ্যালেঞ্জগুলো জেনে নিন

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব দেশ গড়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের গাড়িতে ১০০ শতাংশ ইথানল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের জ্বালানি আমদানি খরচ কমবে এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি চাঙ্গা হবে বলে দাবি মন্ত্রীর।

E100 জ্বালানি আসলে কী? সহজ কথায়, E100 হলো এমন এক জ্বালানি যার মধ্যে ১০০ শতাংশই ইথানল থাকে। আখ, ভুট্টা, চাল এবং কৃষিজ বর্জ্য থেকে এই ইথানল তৈরি করা হয়। বর্তমানে পেট্রোলের সাথে ২০ শতাংশ ইথানল মিশিয়ে (E20) ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার কেন্দ্র সরাসরি E100 চালুর পথ প্রশস্ত করায় গাড়ির ইঞ্জিনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।

কেন এই পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছে কেন্দ্র?

  • আমদানি হ্রাস: ভারত বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে। ইথানলের ব্যবহার বাড়লে সেই আমদানিনির্ভরতা অনেকখানি কমবে।

  • কৃষকদের লাভ: আখের রস বা ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরি হওয়ায় কৃষিপণ্যের চাহিদা ও দাম বৃদ্ধি পাবে, যার সুফল পাবেন কৃষকরা।

  • দূষণ নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশ দূষণ কমাতে ইথানল অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

সবার কি ইথানলে গাড়ি চলবে? কেন্দ্র সবুজ সংকেত দিলেও, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—পুরনো গাড়িতে কি ইথানল ভরা যাবে? উত্তর হলো— না

  • বিশেষ ইঞ্জিনের প্রয়োজন: ইথানলের রাসায়নিক গঠন পেট্রোলের চেয়ে আলাদা। তাই বর্তমানের সাধারণ পেট্রলচালিত ইঞ্জিন বা বাইকে ইথানল ব্যবহার করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ ইঞ্জিন।

  • পরিকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ: সব পেট্রোল পাম্পে E100 মজুত করার মতো পরিকাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। এছাড়া পেট্রোলের চেয়ে ইথানলের শক্তিঘনত্ব কম হওয়ায় একই দূরত্বে বেশি জ্বালানি খরচ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আগামী দিনের রাস্তা গড়কড়ী জানিয়েছেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়ি বাজারে আনতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের কোটি কোটি পুরনো গাড়ি রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই আগামী কয়েক বছর E20 এবং E100 দুটিরই সহাবস্থান দেখা যাবে। ইথানল উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রচুর জলের ব্যবহারের ফলে জল সংকটের মতো জটিল সমস্যা নিয়েও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সব মিলিয়ে, ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন বিপ্লবের সূচনা হতে যাচ্ছে, তবে তা কতটা মসৃণ হবে, তা সময় বলবে।