“ছুটির দিনেও রেহাই নেই!”-২১ জুন সরকারি কর্মীদের যোগ দিবসে হাজিরা বাধ্যতামূলক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবার বিশেষ তৎপরতা রাজ্য সরকারে। রবিবার ছুটির দিন হলেও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের জন্য যোগ দিবস পালন কার্যত বাধ্যতামূলক করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। মুখ্যসচিবের দফতর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ জুন সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে হবে সরকারি কর্মীদের।

কাদের জন্য নির্দেশ? ১৪ জুন প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্থায়ি, অস্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক, দৈনিক মজুরিভিত্তিক, আউটসোর্সড—অর্থাৎ সব ধরনের সরকারি কর্মীর যোগ দিবসে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক। সরকারি দফতর ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্বয়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সংস্থার কর্মীদেরও এই কর্মসূচিতে শামিল হতে হবে। সংশ্লিষ্ট দফতর, সরকারি আবাসন কিংবা রেড রোড অথবা মিলন মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের।

রেড রোডে হাই-ভোল্টেজ অনুষ্ঠান: এবারের যোগ দিবসের মূল আকর্ষণ কলকাতার রেড রোড। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, যোগব্যায়ামের মাধ্যমে জনমানসে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ২০১৪ সালে রাষ্ট্রসংঘে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর থেকে প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। গত বছর বিশাখাপত্তনমে অনুষ্ঠানের পর এবার কলকাতার রাজপথে যোগ দিবসের আসর বসতে চলেছে।

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব: প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ঘিরে নিরাপত্তার কড়াকড়ি থাকছে তুঙ্গে। স্বাভাবিকভাবেই রেড রোড এবং সংলগ্ন এলাকায় ভিআইপি মুভমেন্টের জন্য ট্র্যাফিক ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল হতে পারে। যোগ দিবসের এই ‘স্ট্রেচিং’ সেশনে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। ছুটির সকালে শহরের এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।