“সোনার অলঙ্কার কেনা বন্ধ!”-প্রধানমন্ত্রী মোদীর ডাকে সাড়া, বড় সিদ্ধান্ত নিল যুবক

বিয়ে মানেই নতুন কেনাকাটা, সোনার অলঙ্কার আর জাঁকজমক। কিন্তু এই প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে এক দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিলেন মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধার বাসিন্দা যশ চৌবে এবং তাঁর পরিবার। আগামী ১ জুলাই যশের বিয়ে। হবু বধূর জন্য নতুন মঙ্গলসূত্র কেনার বদলে পরিবারের সিদ্ধান্ত—পুরোনোটিকেই নতুন রূপ দিয়ে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হবে। আর এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার এক দেশপ্রেমিক বার্তা।
ঠিক কী ঘটেছে? বিয়ের কেনাকাটা শুরু হতেই মঙ্গলসূত্র কেনার বিষয়টি সামনে আসে। তখনই যশের মা সীমা চৌবে এক অভিনব প্রস্তাব দেন। তিনি জানান, নতুন মঙ্গলসূত্র না কিনে নিজের পুরোনোটিই পালিশ করে পালিশ করে হবু পুত্রবধূকে দেওয়া হবে। পরিবারের এই সিদ্ধান্তে শুরুতে অনেকে অবাক হলেও, পরে সবাই একমত হন যে এটি দেশসেবার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।
মোদীর আবেদনে সাড়া: গত ১০ মে হায়দরাবাদের এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে একটি বিশেষ আবেদন জানিয়েছিলেন। বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের লক্ষ্যে তিনি নাগরিকদের এক বছরের জন্য সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করতে ব্যক্তিগত এই ত্যাগের গুরুত্ব বোঝান প্রধানমন্ত্রী। এই আবেদনই গভীরভাবে নাড়া দেয় চৌবে পরিবারকে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি: সতীশ চৌবে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে নিজেদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, জাতীয় স্বার্থে ছোটখাটো ব্যক্তিগত বিসর্জন দেওয়া জরুরি। এখানেই শেষ নয়, এই আদর্শ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বিয়ের অনুষ্ঠানে আশীর্বাদ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
ইতিবাচক দৃষ্টান্ত: পরিবারের দাবি, বিয়ে হবে সমস্ত রীতিনীতি মেনে, জাঁকজমকপূর্ণভাবেই। তবে অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা বর্জন করে তারা সমাজকে একটি ইতিবাচক বার্তা দিতে চান। জাতীয় স্বার্থে এবং অর্থনীতিকে সবল করতে ব্যক্তিগত ইচ্ছার ঊর্ধ্বে উঠে চৌবে পরিবারের এই সিদ্ধান্ত এখন নেটদুনিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে। দেশের সাধারণ নাগরিকের এমন সচেতনতা ও দেশপ্রেম সত্যিই বিরল।