গলায় শিকল, শরীরে গরম রডের ছ্যাঁকা! বন্দিদশা ভেঙে থানায় পৌঁছে নজির গড়লেন নির্যাতিতা

দিনের পর দিন ঘরে আটকে রেখে চালানো অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। গলায় লোহার শিকল বেঁধে খুঁটির সঙ্গে তালাবন্ধ করে রাখা, আর তার ওপর জ্বলন্ত লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা— এক গৃহবধূর ওপর চালানো এই নৃশংসতার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। তবে সব অত্যাচার সহ্য করেও সাহসের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন মাঙ্গিবাঈ তানওয়ার নামে এক গৃহবধূ। তাঁর এই অদম্য মানসিক শক্তির জেরেই পুলিশের জালে অভিযুক্ত স্বামী সর্দার সিং তানওয়ার।

চরম অত্যাচারের কাহিনি
নির্যাতিতা মাঙ্গিবাঈ জানান, গত ১০ জুন মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে স্বামী সর্দার সিং তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। কাঠের লাঠি দিয়ে মারধরের পাশাপাশি চলে অকথ্য গালিগালাজ। ঘটনার তীব্রতা বাড়ে যখন তিনি পুলিশের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, স্বামী তাঁর গলায় লোহার শিকল পেঁচিয়ে তা একটি খুঁটির সঙ্গে তালা দিয়ে আটকে দেন। কেবল তাই নয়, গ্যাস স্টোভে লোহার রড গরম করে তাঁর কোমর, নিতম্ব ও উরুতে ক্রমাগত ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। ২৪ ঘণ্টা একপ্রকার পশুর মতো আটকে রাখা হয় তাঁকে।

পাথরই যখন মুক্তির পথ
স্বামী যখন গ্রামবাসীদের জড়ো করার জন্য বাড়ি থেকে বের হন, তখনই মাঙ্গিবাঈ বুঝতে পারেন, এটিই পালানোর শেষ সুযোগ। গলার শিকল বাঁধানো তালাটি ভাঙার জন্য তিনি একটি পাথর বেছে নেন। অমানবিক যন্ত্রণার মধ্যেও বারবার পাথরের আঘাতে অবশেষে তালা ভাঙতে সক্ষম হন তিনি। গলায় ভাঙা শিকল ও তালা ঝুলন্ত অবস্থাতেই অন্ধকার রাতে দুর্গম পথ পেরিয়ে দীর্ঘ ৬ কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছান খিলচিপুর থানায়।

থানায় পৌঁছাতেই হতবাক পুলিশ
রাত ১০টা নাগাদ ক্ষতবিক্ষত শরীরে গলায় শিকল ঝোলানো অবস্থায় যখন মাঙ্গিবাঈ থানায় ঢোকেন, তখন অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসাররাও হতবাক হয়ে পড়েন। মহিলার রক্তাক্ত পা ও শরীরে পোড়া দাগ দেখেই ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পারেন তাঁরা। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠিয়ে পুলিশ গ্রামে অভিযান চালায় এবং অভিযুক্ত সর্দার সিংকে গ্রেপ্তার করে।

খিলচিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) কমল সিং গেহলট জানান, মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শিকলটিকেই এই মামলার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

একটি সাহসের জয়
যে শিকল দিয়ে স্বামী তাঁর কণ্ঠস্বর ও অস্তিত্বকে স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন, মাঙ্গিবাঈ সেই শিকলটিকেই সঙ্গে করে থানায় নিয়ে যান। তাঁর এই অসামান্য সাহসিকতা আজ বহু নির্যাতিতা নারীর কাছে এক অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে পুলিশ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।