তৃণমূলে মহাবিপ্লব! ২০ সাংসদ যোগ দিচ্ছেন এনসিপিআই-তে, এনডিএ-র পথে কাকলি ঘোষ দস্তিদার!

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) অন্দরে চরম অস্থিরতা। দলের একটি বড় অংশ বিদ্রোহ ঘোষণা করে রবিবার এক চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তৃণমূলের নির্বাচিত ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-এর সঙ্গে মিশে গিয়ে এনডিএ (NDA) শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
বিদ্রোহী সাংসদদের পদক্ষেপ:
বিদ্রোহী সাংসদদের প্রতিনিধি হিসেবে কাকলি ঘোষ দস্তিদার রবিবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়ে সংসদে এই ২০ জন সাংসদকে আলাদাভাবে বসার অনুরোধ জানিয়েছেন। কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, দলের মোট সাংসদ সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি তাঁদের সঙ্গে রয়েছে, যা দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এনডিএ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন।
কী বলছে এনসিপিআই?
তৃণমূলের এই ২০ সাংসদের এনসিপিআই-তে যোগদানের খবরটি দলের জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শান্তনু দে-র কাছেও চমকপ্রদ। তিনি এএনআই (ANI)-কে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত দলের সভাপতি নিয়েছেন এবং বিষয়টি তিনি সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই জেনেছেন। তবে দলের এই বিস্তৃতিকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
শান্তনু দে বলেন, “আমি দলের উন্নতি ও দেশের স্বার্থে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা প্রধানমন্ত্রী মোদীকে সমর্থন করি এবং এনডিএ-র সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। কাকলিদি যদি আমাদের সঙ্গে কথা বলেন, তবে আমরা অবশ্যই দিল্লির নেতৃত্ব বা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।” তিনি আরও জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই একটি প্রেস মিটের মাধ্যমে দল এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদের এই বিদ্রোহ ও দলবদলের সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে তৃণমূলের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, তারই চরম পরিণতি এই ঘটনা। এখন দেখার বিষয়, এনসিপিআই-এর ব্যানারে এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ জাতীয় রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন।