‘কালিঘাটের কাকু’-র ফোনে কার নাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য চার্জশিটে

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সোমবার নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়ালো। এই মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে সোমবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেন তিনি। সিবিআই-এর পেশ করা একটি চার্জশিটকে ভিত্তি করেই এই তলব বলে জানা গেছে।
অভিযোগের মূলে যা:
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সিবিআইয়ের চার্জশিটে ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে ‘কালিঘাটের কাকু’-র একটি কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ের উল্লেখ রয়েছে। সেই কথোপকথনে ‘অভিষেক’ নামের এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। এই ব্যক্তি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কি না, তা নিশ্চিত হতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
চার্জশিটের বিস্ফোরক দাবিগুলো:
চার্জশিটে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে, তা রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো:
অর্থের ভাগ ও মতবিরোধ: তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো মতবিরোধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
১৫ কোটির দাবি: বেআইনি নিয়োগের ক্ষেত্রে ১৫ কোটি টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে চাকরিপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ বা জয়েনিং আটকে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
১০০ কোটির লক্ষ্য: চার্জশিটের দাবি অনুযায়ী, পুরো নিয়োগ দুর্নীতি প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কুন্তল ঘোষ ও শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মধ্যস্থতাকারীরা এই অর্থ সংগ্রহের কাজে সক্রিয় ছিলেন।
২০ কোটির পরিকল্পনা: সুজয়কৃষ্ণ ভদ্রের মাধ্যমে পরবর্তীতে আরও ২০ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়ার ছক ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
পাল্টা যুক্তি:
উল্লেখ্য যে, সিবিআই বা ইডি যে সমস্ত অভিযোগ চার্জশিটে এনেছে, তার কোনোটিই এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষ বরাবরই এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁদের দাবি, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।