ইউসুফ পাঠান থেকে খলিলুর রহমান! মমতার সঙ্গ ছাড়ছেন তৃণমূলের তাবড় মুসলিম সাংসদরা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অস্থিরতার আঁচ এবার পৌঁছে গেল সংসদের অন্দরেও। টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহের ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় ভূমিকম্পের সৃষ্টি করেছে। সূত্রের খবর, দলের অন্দরে তীব্র মতবিরোধের জেরে লোকসভায় তৃণমূলের এক বড় অংশ আলাদা গোষ্ঠী গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
সংসদে বিদ্রোহী সাংসদদের তালিকা:
সূত্রের খবর, লোকসভার ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৯ জন মিলে স্পিকারের কার্যালয়ে একটি পৃথক গোষ্ঠী গঠনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী দলে রয়েছেন দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-নেত্রী। তালিকায় রয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দেব (দীপক অধিকারী), রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া এবং পার্থ ভৌমিকের মতো পরিচিত মুখ। এই চিঠিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে চিফ হুইপ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, পরবর্তীকালে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পিকারকে জানিয়ে দেয় যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই চিফ হুইপ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
বিদ্রোহী দলে তিন মুসলিম সাংসদ:
তৃণমূলের এই বিদ্রোহে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো তিন মুসলিম সাংসদের দলত্যাগ, যাঁরা বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। এঁরা হলেন:
ইউসুফ পাঠান (বহরমপুর): প্রখ্যাত এই প্রাক্তন ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে পরাজিত করে নজর কেড়েছিলেন।
আবু তাহির খান (মুর্শিদাবাদ): কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক থেকে তৃণমূলে আসা এই নেতা এবার সাংসদ হিসেবেও বিদ্রোহের পথে।
খলিলুর রহমান (জঙ্গিপুর): শিল্পপতি ও বিশিষ্ট বিড়ি ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান জঙ্গিপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।
রাজ্যসভাতেও ধস:
শুধু লোকসভাই নয়, রাজ্যসভাতেও বড় ধাক্কা খেয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পরপর পদত্যাগ করেছেন প্রকাশ চিক বরাইক, সুখেন্দু শেখর রায় এবং সুস্মিতা দেব। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে মতপার্থক্যের জেরেই তাঁরা পদত্যাগ করেছেন বলে খবর। এর আগে গত সপ্তাহে বিধানসভাতেও ৫৮ জন বিধায়ক বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলে বিদ্রোহের আগ্নেয়গিরি ক্রমশ সক্রিয় হচ্ছিল। একদিকে সংগঠনের ভাঙন, অন্যদিকে একের পর এক জনপ্রতিনিধির পদত্যাগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বর্তমানে এক অস্তিত্ব সংকটের মুখে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দাবি করছে, তৃণমূলের অন্দরে গণতন্ত্রের অভাব এবং নেতৃত্বের একচ্ছত্র আধিপত্যই এই গণ-পদত্যাগের মূল কারণ।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই বিদ্রোহকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে অভিহিত করা হলেও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে— দলের অন্দরের এই ভাঙন আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।