‘টাটাকে ফেরাবই!’ সিঙ্গুর নিয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, বণ্টন চূড়ান্ত মন্ত্রিসভার

কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ১২ বছর পূর্তির আবহে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের এক মাসের শাসনকাল এক নতুন দিশার ইঙ্গিত দিল। নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিল্পায়ন ও উন্নয়নের নতুন ব্লু-প্রিন্ট পেশ করলেন। সেই সঙ্গে দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে চূড়ান্ত হলো রাজ্য মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন।

সিঙ্গুর ও শিল্পায়ন নিয়ে শুভেন্দুর রূপরেখা
সিঙ্গুরের জমি এবং শিল্পায়ন প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “টাটাকে আমরাই ফিরিয়ে আনব। সিঙ্গুরের জমি এখন আর সরকারের হাতে নেই, বিগত সরকার তা কৃষকদের দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেখানকার বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ; কৃষকরা সেখানে সরষের, আলুর বা ধানের চাষও করতে পারছেন না। ওই মাটির সঙ্গে টাটার রড ও সিমেন্ট মিশে রয়েছে।”

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিল্প দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাঁচবারের অভিজ্ঞ বিধায়ককে। আগামী দিনে আমাদের প্রধান লক্ষ্য বেকার সমস্যার সমাধান এবং ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা।”

শিল্পপতিদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনটি শর্তের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী:
১. সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী অতীতে কোনো ব্যাংক বা জমি জালিয়াতিতে জড়িত কি না, তা যাচাই করা হবে।
২. রাজ্যের জমি নেওয়ার পর সেখানে আদৌ কোনো ইউনিট তৈরি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হবে।
৩. কেবল ছবি তোলার জন্য বা প্রচারের জন্য নয়, যারা প্রকৃত বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আসছেন, তাদেরই স্বাগত জানানো হবে।

মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ দফতর বণ্টন
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জল্পনার পর অবশেষে মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের হাতে রেখেছেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলি। এর মধ্যে রয়েছে:

স্বরাষ্ট্র ও ভূমি/ভূমি সংস্কার দফতর।

বিদ্যুৎ, আইন, তথ্য এবং সংস্কৃতি দফতর।

এর আগে ৯ মে ৬ জন এবং পরবর্তীতে আরও ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। দফতর বণ্টন চূড়ান্ত হওয়ায় এবার প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে বলেই আশা করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ভরসার ১২ বছর’ এবং রাজ্য সরকারের ‘ভরসার ১ মাস’—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে বাংলা শিল্প ও উন্নয়নের পথে কতটা দ্রুত এগোয়, এখন সেটাই দেখার।