ইরানি নারী থেকে আফগান নাগরিক! মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে নির্বাসনের তোড়জোড়, ট্রাম্পের নয়া সিদ্ধান্তে তীব্র বিতর্ক

ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ইস্যুতে ফের এক কঠোর ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে চলেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে নির্বাসিত করার জন্য ইরান, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও তুরস্কের নাগরিকদের সরাসরি নিজ দেশে না পাঠিয়ে তাদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত এই দেশটিতে এমন ব্যক্তিদের পাঠানো নিয়ে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

নির্যাতনের মুখে পড়া নারীরা কি তবে বিপদে?
নির্বাসিতদের তালিকায় থাকা দুই ইরানি নারী বর্তমানে মার্কিন অভিবাসন আদালতের সুরক্ষা (‘প্রত্যাহার স্থগিতকরণ’) পাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত, অন্যজন গণতন্ত্রপন্থী কর্মী। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল যে, ইরানে ফেরত পাঠানো হলে তাদের ওপর নির্যাতন বা গ্রেপ্তারের ঝুঁকি ৫০ শতাংশের বেশি। এরপরও ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন চুক্তির অধীনে প্রথম দফায় প্রায় ২০ জন অভিবাসীকে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের রাজধানী বাংগুইয়ে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তৃতীয় দেশ নীতি: ট্রাম্পের নতুন চাল
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘তৃতীয়-দেশ নির্বাসন’ নীতির আওতায় এমন ব্যক্তিদের অন্য দেশে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যাদের সরাসরি নিজ দেশে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ বা কূটনৈতিকভাবে অসম্ভব। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই অভিবাসীদের বাংগুইয়ের অ্যাপার্টমেন্টে রাখা হবে এবং তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে এই পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে শত শত অভিবাসীকে সেখানে পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ক্ষোভ
এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নাগরিকদের অধিকারের কথা বলে, অন্যদিকে আশ্রয়প্রার্থী এই মানুষগুলোকে এমন একটি দেশে ঠেলে দিচ্ছে যেখানে মৌলিক নিরাপত্তা ও ন্যূনতম জীবনযাত্রার মানই নেই। ৫৫ লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশটি ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকে মূলত গৃহযুদ্ধ ও দারিদ্র্যের সাথে লড়ছে। বিশ্বজুড়ে অস্থিতিশীল হিসেবে পরিচিত এই রাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠানোর সিদ্ধান্ত মানবিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

কেন এই পরিকল্পনা?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের এক কঠিন কৌশল। নিজ দেশে নির্বাসন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে তারা এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন উদাহরণ সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।