৬ বিঘা জমি লিখে নিয়েও মেলেনি চাকরি! প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে ভাঙচুর, তীব্র চাঞ্চল্য

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আবহেই এবার সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কৃষিজমি আত্মসাতের অভিযোগে উত্তাল বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বালসি গ্রাম। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা নবকুমার পালের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কী অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের?
স্থানীয় সূত্রের খবর, কয়েক বছর আগে একটি পরিবারের দুই সদস্যকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ওই নেতা। অভিযোগ, সেই কাজের বিনিময়ে পরিবারের কাছ থেকে বিপুল টাকা চাওয়া হয়। অভাবী পরিবারটি নগদ অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে, তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ছয় বিঘা উর্বর কৃষিজমি ওই নেতার নামে লিখে নেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, জমি হস্তান্তরের পরেও চাকরির কোনো হদিস মেলেনি। উল্টে, ওই জমির ওপরই নেতা গড়ে তুলেছেন বিশাল অট্টালিকা।
কে এই নবকুমার পাল?
অভিযুক্ত নবকুমার পাল এতদিন বালসি অঞ্চলে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তৃণমূলের ক্ষেতমজুর সংগঠনের পাত্রসায়ের ব্লক সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকায় আর্থিক অনিয়ম, চাঁদা আদায় ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছরের মধ্যেই নেতার এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে বহু প্রশ্ন থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পাননি।
গ্রামের উত্তেজনা ও নেতার সাফাই:
ঘটনার কথা জানাজানি হতেই গতকাল ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা নবকুমার পালের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলে বাড়ির বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার সময় নেতার সঙ্গে স্থানীয়দের ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে।
সমস্ত অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন নবকুমার পাল। তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, “পুরো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রমূলক। আমাকে এবং আমার পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে নিশানা করার জন্যই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।