নিখোঁজ ৩ বছরের শিশু, বারবার ফিরছে পোষা কুকুর! জিপিএস ট্র্যাকার লাগাতেই সামনে এল কোন রহস্যময় বাধা?

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাদা জেলার টুনি এলাকায় তিন বছর বয়সী একরত্তি জাহ্নবীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। টানা ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ, উদ্ধারকারী দল বা স্থানীয় গ্রামবাসীদের ম্যারাথন তল্লাশি অভিযানে এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনো সুনির্দিষ্ট সূত্র। সময় যত গড়াচ্ছে, জাহ্নবীর পরিবারের উদ্বেগ ও হাহাকার ততটাই আছড়ে পড়ছে সিএইচ আগ্রাহারাম গ্রামের বাতাসে।

যেভাবে শুরু রহস্যের
পরিবারের সাথে একটি পাম তেল বাগানের মাঝে থাকত শিশু জাহ্নবী। ঘটনার দিন বাড়ির অনতিদূরেই আপনমনে খেলছিল সে। কিন্তু মুহূর্তের অসতর্কতায় আচমকাই চোখের আড়াল হয়ে যায় ফুটফুটে মেয়েটি। স্বজনরা চারদিকে হন্যে হয়ে খুঁজেও তার হদিস না পেয়ে শেষমেশ দ্বারস্থ হন পুলিশের। তবে গত ছয়টি দিন ধরে অবিরাম তল্লাশি চললেও, জাহ্নবীর নিখোঁজ রহস্যের জট খোলেনি।

রহস্যের নতুন মোড়: পোষা কুকুরের অদ্ভুত আচরণ
এই গোটা মামলার সবচেয়ে নাটকীয় ও আশাব্যঞ্জক দিক ছিল পরিবারের পোষা কুকুরটি। আশ্চর্যজনকভাবে, জাহ্নবী নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই এই কুকুরটিও বেপাত্তা ছিল। তবে গত কয়েকদিনে এটি দু’বার বাড়ি ফিরে আসে।

পুলিশের অনুমান ছিল, এই অনুগত পশুই হয়তো জাহ্নবীর কাছে পৌঁছানোর একমাত্র চাবিকাঠি। সেই সূত্র ধরে কর্তৃপক্ষ পরিকল্পনা করেছিল, কুকুরটির গলায় একটি জিপিএস ট্র্যাকার (GPS Tracker) লাগিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে, যাতে তার গতিপথ অনুসরণ করে নিখোঁজ শিশুর সন্ধান মেলে।

থমকে গেল পরিকল্পনা: দ্বিতীয়বার বাড়ি ফেরার পর থেকেই কুকুরটির আচরণে চরম অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কুকুর উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, অবলা প্রাণীটি মারাত্মকভাবে মানুষকে ভয় পাচ্ছে এবং তার ট্রমাটাইজড আচরণ স্বাভাবিক নয়। ফলে জিপিএস ট্র্যাকার লাগানোর পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুকুরটির মানসিক অবস্থা স্বাভাবিক হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

“ও-ই পথ দেখাবে…” মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ
এদিকে জাহ্নবীর মা ভবানীর শোকবিহ্বল অবস্থা দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও। এক অদ্ভুত আকুলতায় তিনি বারবার ছুটে যাচ্ছেন পোষা কুকুরটির কাছে, অবলা প্রাণীর চোখেই খুঁজছেন নিজের নাড়িছেঁড়া ধনের সন্ধান। কান্নাভেজা কণ্ঠে ভবানী বলেন:

“কুকুরটা যখন বাড়ি ফিরে এল, আমি ভেবেছিলাম আমার মেয়েটাও বুঝি ফিরে আসবে। আমি এখনও বিশ্বাস করি, ওকে ছেড়ে দিলে ওই আমাকে জাহ্নবীর কাছে নিয়ে যাবে।”

প্রবল বৃষ্টি এবং ড্রোন ওলটপালট ৫০ একর
যে এলাকায় জাহ্নবীর পরিবার থাকে, তার চারপাশে প্রায় ৫০ একর জুড়ে বিস্তৃত পাম তেলের বাগান। তার ঠিক পরেই রয়েছে খাড়া পাহাড় ও ঘন জঙ্গল। পুলিশ ইতিমধ্যেই জঙ্গল, ঝোপঝাড়, নালা এবং পুকুরসহ প্রতিটি সম্ভাব্য কোণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেছে। পুরো দুর্গম এলাকাটি চষে ফেলতে নামানো হয়েছে অত্যাধুনিক ড্রোন ক্যামেরাও। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নিখোঁজের ঠিক পরের দিনই ওই এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, ধুয়ে যায় বহু গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।

আপাতত অপহরণের তত্ত্বসহ সবকটি দিক খোলা রেখেই তদন্তের জাল ছড়াচ্ছে পুলিশ। অলৌকিক কোনো কিছুর আশায় বুক বেঁধে ঈশ্বরের আরাধনা করছেন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একরত্তি মেয়েটি যেন অক্ষত শরীরে মায়ের কোলে ফিরে আসে—এই প্রার্থনাই এখন গোটা টুনি জুড়ে।