অবসরের পর চিন্তামুক্ত জীবন! এককালীন বিনিয়োগে প্রতি মাসে পাবেন মোটা পেনশন

কর্মজীবন শেষে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিন্তা অনেকেরই রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। বিশেষ করে বেসরকারি ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অবসরের পর সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। আপনার অবসর জীবনকে নিশ্চিন্ত ও আর্থিক নিরাপত্তায় মুড়ে রাখতে ভারতের জীবন বিমা নিগমের (LIC) ‘সরল পেনশন যোজনা’ হতে পারে একটি মোক্ষম সমাধান।
কী এই ‘সরল পেনশন যোজনা’?
এটি একটি সিঙ্গল-প্রিমিয়াম ইমিডিয়েট অ্যানুইটি প্ল্যান। অর্থাৎ, পলিসি নেওয়ার সময় আপনাকে মাত্র একবার এককালীন অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এরপর নিয়ম অনুযায়ী এলআইসি আপনাকে নিয়মিত পেনশন দেবে। এই স্কিমের বড় আকর্ষণ হলো, পেনশনের অঙ্ক আজীবন অপরিবর্তিত থাকে। বাজারের উত্থান-পতন বা সুদের হার পরিবর্তনের আঁচ আপনার নিশ্চিন্ত আয়ে পড়বে না।
বিনিয়োগের নিয়ম ও সুবিধা:
বয়সসীমা: ৪০ থেকে ৮০ বছর বয়সী যে কেউ এই পলিসিতে বিনিয়োগ করতে পারেন।
যৌথ সুবিধা: চাইলে স্বামী-স্ত্রী মিলে জয়েন্ট পলিসিও নেওয়া সম্ভব।
পেনশনের বিকল্প: বিনিয়োগকারী নিজের সুবিধামতো মাসে, তিন মাস অন্তর, ছয় মাস অন্তর অথবা বছরে একবার পেনশন পাওয়ার বিকল্প বেছে নিতে পারেন।
সর্বনিম্ন বিনিয়োগ: বছরে অন্তত ১২ হাজার টাকা পেনশন পাওয়ার মতো বিনিয়োগ করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনো সীমা নেই। আপনি যত বেশি টাকা বিনিয়োগ করবেন, পেনশনের পরিমাণও তত বাড়বে।
বিশেষ সুবিধা:
লোনের সুবিধা: পলিসি শুরুর ছয় মাস পর থেকেই শর্তসাপেক্ষে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সারেন্ডার সুবিধা: বিশেষ প্রয়োজনে ৬ মাস পর পলিসি সারেন্ডার করা যেতে পারে।
পরিবারের সুরক্ষা: পলিসিধারীর মৃত্যু হলে নমিনিকে মূল বিনিয়োগকৃত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
পেনশন কত পাবেন?
এলআইসির পেনশন ক্যালকুলেটর অনুযায়ী, যদি ৪০ বছর বয়সী কোনো ব্যক্তি ৪০ লক্ষ টাকা এককালীন বিনিয়োগ করেন, তবে তিনি বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৬২ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। সেই হিসেবে প্রতি মাসে তাঁর নিশ্চিত আয় দাঁড়াবে প্রায় ২১,৮০০ টাকা।
আপনি কি ঝুঁকিহীন বিনিয়োগে নিশ্চিত মাসিক আয়ের পথ খুঁজছেন? তবে এলআইসি-র এই স্কিম আপনার জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বিনিয়োগের আগে বিস্তারিত জানতে আপনার নিকটস্থ এলআইসি শাখা বা এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।