‘অভিষেককে রাখবেন নাকি আমাকে?’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি বেছে নিতে বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার প্রকাশ্যে এল চরম সংঘাত। সই জালিয়াতি কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁর সমস্ত আইনি মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান সাংসদ ও দুঁদে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

মমতাকে বেঁধে দিলেন ‘ডেডলাইন’
দলীয় সূত্রে খবর, সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেকের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অভিষেকের অভব্য আচরণ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। সব বিষয়ে সে এমন আচরণ করে যেন সে রাজা। দিদিকে এবার ঠিক করতে হবে, তিনি অভিষেককে রাখবেন নাকি আমার মতো মানুষদের পাশে রাখবেন।” দলের নেত্রীকে রীতিমতো আল্টিমেটাম দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ সাংসদ।

অভিযোগের তির অভিষেকের দিকে
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই আজ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদকেও আজ তাঁর জন্য ‘চোর’ শুনতে হচ্ছে। ২০২২ সালেই আমি সতর্ক করেছিলাম যে, এর দ্বারা দল চালানো সম্ভব নয়।” পাশাপাশি, সই জালিয়াতির ঘটনায় দলের বিধায়কদের সই নকল করার অভিযোগ নিয়েও তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

কেন এই দূরত্ব?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৩০ মে। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে বিক্ষোভের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও হামলার মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। দলের হয়ে রাস্তায় নেমে লড়ার পরেও, তাঁকে আইনজীবীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে খবর। এই অপমানই যেন ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

মঙ্গলবার কালীঘাটে সিআইডি (CID)-এর তল্লাশি চালানোর খবর পেয়েই দিল্লি থেকে ফিরে ছুটে গিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই আনুগত্যের বিনিময়ে তাঁকে চূড়ান্ত অসম্মান করা হয়েছে বলেই মনে করছেন তাঁর ঘনিষ্ঠমহল।

দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ তৃণমূলের অন্দরে যে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতিতে কী অবস্থান নেন, সেটাই দেখার বিষয়।