বেকারভাতা মিলবে ৩০০০ টাকা! ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের আপডেট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, রেজিস্ট্রেশন কবে?

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বেকার যুবক-যুবতীদের নজর ছিল নতুন সরকারের ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ প্রকল্পের দিকে। পূর্ববর্তী সরকারের ‘যুবসাথী’ বা ‘যুবশ্রী’ প্রকল্পের জায়গায় বিজেপি সরকার নিয়ে এসেছে এই নতুন প্রকল্প। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের মাসিক ভাতা দ্বিগুণ অর্থাৎ ৩০০০ টাকা করার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, কবে থেকে মিলবে এই ভাতার টাকা?
পোর্টাল আপডেট ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
ইতিমধ্যেই যুবশক্তির অফিসিয়াল পোর্টাল চালু হয়েছে। যারা আগে যুবশ্রীর সুবিধা পেতেন না, তাদের নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। গুগলে সার্চ করলে এখন ব্যবহারকারীরা নতুন যুবশক্তি পোর্টালে রিডাইরেক্ট হয়ে যাচ্ছেন। তবে পোর্টালের ভেতরে তথ্য আপডেটের কাজ এখনও বাকি রয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই পোর্টালটি পুরোপুরি আপডেট করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থীরা আবেদনের সুযোগ পাবেন। চলতি জুন মাস থেকেই রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কেন দেরি হচ্ছে ভাতার টাকা পেতে?
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ সম্প্রতি জানিয়েছেন, ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বর্তমানে সমীক্ষার কাজ চলছে। আগের সরকারের আমলে প্রায় ৫৫ লক্ষ উপভোক্তা ছিলেন। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত, এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার নথিপত্র এবং তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হবে।
তথ্য যাচাইয়ের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণেই ভাতার টাকা পেতে দেরি হচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। শোনা যাচ্ছে, যতক্ষণ না ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ সাময়িকভাবে ভাতা স্থগিত থাকতে পারে। তবে সরকার বারবার আশ্বস্ত করেছে যে, যোগ্য বেকাররা কর্মসংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত এই ভাতার সুবিধা পাবেন।
বেকারদের জন্য একনজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ভাতার পরিমাণ: ৩০০০ টাকা (পূর্বের দ্বিগুণ)।
আবেদন পদ্ধতি: অনলাইন পোর্টাল ‘যুবশক্তি’ (www.yuvashakti.wb.gov.in – যাচাই সাপেক্ষ)।
ভেরিফিকেশন: পুরনো তালিকাভুক্তদের নথিপত্র নতুন করে যাচাই করা হবে।
সব মিলিয়ে, ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া মিটলেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ-তরুণীর হাতে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পোর্টালটিতে নিয়মিত নজর রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।