৫৪৭ কোটি টাকার সংস্কার! এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার স্মৃতি মুছে নতুন স্বপ্নের পথে গুজরাট

আজ ১২ জুন, ঠিক এক বছর আগে এই দিনেই আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার ১৭১ ফ্লাইট দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ২৬০ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল সর্বত্র। সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে, অভিশপ্ত সেই মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার ঘোষণা করল গুজরাট সরকার। ৫৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই ক্যাম্পাসকে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
দুর্ঘটনার স্মৃতি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
গত বছর এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রিমলাইনার ৭৩৭ বিমানটি আহমেদাবাদের একটি মেডিকেল কলেজের হস্টেল ও ক্যান্টিনের ওপর আছড়ে পড়েছিল। ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছিলেন বিমানের যাত্রী এবং তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপাণী সহ অনেকেই। দুর্ঘটনার পর থেকে হস্টেল চত্বরটি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল।
কী কী থাকছে নতুন ক্যাম্পাসে?
গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসারিয়া জানিয়েছেন, সরকার দুর্ঘটনার ক্ষত সারিয়ে উন্নয়নের পথে হাঁটছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় পুরনো ভাঙা-পোড়া সব বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী:
নতুন হাসপাতাল: ঠিক যে জায়গায় বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেখানে একটি ‘প্যারাপ্লেগিয়া স্পাইন হাসপাতাল’ তৈরি করা হবে।
চিকিৎসা ও শিক্ষা: ক্যাম্পাসে নতুন করে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ফিজিওথেরাপি কলেজ, এবং উন্নত হস্টেল তৈরি করা হবে।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আবাসন: ১ লক্ষ ৭১ হাজার ১০০ স্কোয়ার মিটার জমিতে শিক্ষকদের জন্য ১২০টি ৩-বিএইচকে ফ্ল্যাট এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ৩৬৪টি রুমের দুটি হস্টেল ব্লক তৈরি হবে। স্নাতকোত্তর বিবাহিত শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে ১৬১টি আলাদা ইউনিট।
ফুড অ্যান্ড ড্রাগস ল্যাব: রাজ্যের ফার্মাসিউটিক্যাল টেস্টিংয়ের সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে একটি বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে।
সরকারের অঙ্গীকার:
স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল পানসারিয়া নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, “এই বিপর্যয় আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে আমরা সেই ক্ষতকে উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” নতুন এই পরিকাঠামো কেবল মেডিক্যাল পড়ুয়াদের আশার আলো দেখাবে না, বরং আহমেদাবাদের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এক বছর আগে যেখানে কান্নার রোল উঠেছিল, সেই জমিতেই এখন আধুনিক চিকিৎসার স্বপ্ন বুনছে গুজরাট সরকার। আগামী দিনে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা আহমেদাবাদের শিক্ষাক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।