দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের গোপন বৈঠক! মমতার পাশে থাকার দাবি, চিঠিতেও নাম; দ্বিধাবিভক্ত সাংসদরা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলছে চরম নাটকের মহড়া। গত সোমবার থেকে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় গোপনে বৈঠক করছেন তৃণমূল সাংসদরা। সূত্রের খবর, এই বৈঠকগুলোতে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও একাধিক সাংসদকে দেখা গেছে বলে জল্পনা তুঙ্গে।
সাংসদদের ‘দ্বিমুখী’ অবস্থান:
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। বৈঠকের পর কিছু সাংসদ সরাসরি বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও, বাকিদের মধ্যে দেখা গেছে চরম অস্বস্তি। এমনকি কিছু সাংসদকে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা এড়াতে মুখ ঢেকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, ১৯ জন সাংসদের যে সই সম্বলিত চিঠিটি প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে অনেকের নাম থাকলেও, তাঁরা মুখে দাবি করছেন যে তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন। একইসঙ্গে চিঠিতে সই এবং মুখে দলনেত্রীর প্রতি আনুগত্য—এই ‘দ্বিমুখী’ আচরণ নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক?
দিল্লির এই বৈঠকগুলো নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের এই সাক্ষাৎ কি তবে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত? যদিও সরকারিভাবে কোনো পক্ষই এই বৈঠকের বিষয়বস্তু খোলসা করেনি, তবে এই ধরনের ‘গোপন সফর’ যে শাসক দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিদ্রোহী সাংসদদের ওপর নজর রাখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কি তবে দলের একটা বড় অংশ বিশ্বাস হারাচ্ছে? নাকি এটি নিছকই কোনো রাজনৈতিক কৌশলের অংশ? দিল্লির এই বৈঠকের জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।