তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল! রাজ্যসভার সাংসদ পদ ছাড়লেন প্রকাশচিক বরাইক, লক্ষ্য কি শুভেন্দুর নেতৃত্ব?

রাজ্যসভায় আবারও বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। সুখেন্দুশেখর রায় ও সুস্মিতা দেবের পর এবার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের প্রভাবশালী আদিবাসী নেতা প্রকাশচিক বরাইক। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে তিনি দলত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাংসদ সংখ্যা কমে ১০-এ, অস্তিত্ব সংকটে জোড়াফুল?
প্রকাশচিক বরাইকের ইস্তফায় রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে এখন দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০-এ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি পদত্যাগ নয়, বরং তৃণমূলের অন্দরে চলা বড়সড় ভাঙনেরই প্রতিফলন। সূত্র মারফত খবর, চলতি মাসেই আরও ৩ থেকে ৪ জন রাজ্যসভার সাংসদ দল ছাড়তে পারেন, যা জোড়াফুল শিবিরের জন্য বড়সড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

‘দাদার পথেই’ প্রকাশচিক, সরাসরি শুভেন্দুর দিকেই ইঙ্গিত
সাংসদ পদ ছাড়ার পাশাপাশি তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন প্রকাশচিক। তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি বলেন, “আগামী দিনে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যা নির্দেশ দেবেন, সেইমতোই কাজ করব।” তাঁর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, তিনি অদূর ভবিষ্যতে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে এটি তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।

কী এই ‘কৌশলী’ ভাঙনের ব্লু-প্রিন্ট?
দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) এড়াতে রাজ্যসভায় লোকসভা বা বিধানসভার মতো একযোগে ভাঙন না ধরিয়ে, ধাপে ধাপে ইস্তফার কৌশল নিয়েছে বিদ্রোহী শিবির। কারণ, উচ্চকক্ষে একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ ভাঙানো আইনিভাবে কঠিন। সেই কারণেই একে একে ইস্তফা দিয়ে শূন্যপদ তৈরির এই ‘মেগা পরিকল্পনা’ সাজানো হয়েছে।

সংকটের মুখে মমতা-অভিষেক?
কেবল রাজ্যসভা নয়, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়কের আলাদা পরিষদীয় দল গঠন এবং লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন প্রায় ২০ জন সাংসদের এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার চিঠির পর, তৃণমূলের অন্দরে এখন কার্যত ত্রাহি ত্রাহি রব। বর্তমান রাজনৈতিক পাটিগণিত বলছে, এই আসনগুলোতে উপনির্বাচন হলে বিজেপি বড় জয়ের পথে। দিল্লির মসনদে বসে জোড়াফুল শিবির এখন কার্যত নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে।