হরমুজ ঘিরে বারুদের স্তূপ! ইরান-আমেরিকা সরাসরি যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি কি ধ্বংসের মুখে?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত আকাশ আবারও রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর ক্রমাগত বোমাবর্ষণের পর পাল্টা আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) সরকারিভাবে ঘোষণা করেছে যে, হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই এনার্জি করিডোর বন্ধের ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতে এখন ‘গ্লোবাল এনার্জি শক’-এর চরম আতঙ্ক।
বারুদের গন্ধ মাখা রাত: ট্রাম্পের হুমকি ও ইরানের জবাব
কিশ আইল্যান্ড ও বন্দর আব্বাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় দিনের জোরালো হামলার পরই পরিস্থিতির নাটকীয় অবনতি ঘটে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিস থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “ওরা আমাদের ক্রমাগত বিরক্ত করছে, তাই আজ আরও জোরদার হামলা চালানো হবে।” অন্যদিকে, তেহরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে এই জলপথে কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাঙ্কার প্রবেশের চেষ্টা করলেই তা ‘শত্রুপক্ষের টার্গেট’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সরাসরি ধ্বংস করা হবে।
হরমুজ বন্ধ: বিশ্ব অর্থনীতির হৃদস্পন্দন কি এবার স্তব্ধ?
হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ২০ মিলিয়ন ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ার ফলে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ৭টি ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে:
| সংকট | প্রভাব |
| জ্বালানি আকাল | বিশ্বব্যাপী ২০% তেল সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা। |
| মূল্যবৃদ্ধি | ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি $৯৫ ছাড়িয়েছে। |
| বিদ্যুৎ বিপর্যয় | বিশ্বের ২০% এলএনজি (LNG) সরবরাহ ব্যাহত হবে। |
| পণ্যের দাম | পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি। |
| খাদ্য নিরাপত্তা | ইউরিয়া ও সার সরবরাহ বন্ধে চাষবাসে ব্যাপক ক্ষতি। |
| মন্দার কবলে বিশ্ব | ২০২৬ সালের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধূলিসাৎ হতে পারে। |
| গণছাঁটাই | উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ব্যাপক হারে চাকরি হারানোর শঙ্কা। |
সতর্কতা ও অনিশ্চয়তা
যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে যে, বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও ওই পথ দিয়ে যাতায়াত করছে এবং ইরানের হামলার দাবি ভিত্তিহীন, কিন্তু ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, শুধুমাত্র তাদের ‘বন্ধু দেশগুলোর’ জাহাজই বিশেষ অনুমতিতে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের এই শক্তি প্রদর্শন এখন গোটা বিশ্বকে পণবন্দী করে ফেলেছে। সুপারমার্কেটের তাক থেকে শুরু করে আপনার বিদ্যুতের বিল—সবই এখন নির্ভর করছে হরমুজের এই সামুদ্রিক অচলাবস্থা আগামী কয়েক ঘণ্টায় কোন দিকে মোড় নেয়, তার ওপর।