ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে বড় সুখবর! বারবার নবীকরণের ঝক্কি থেকে মুক্তি পেতে চলেছে চালকরা?

দেশের কোটি কোটি গাড়িচালকের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবীকরণের ঝামেলা কমাতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক (MoRTH) একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে লাইসেন্স নবীকরণের ঝক্কি ও আরটিও (RTO)-র দৌড়ঝাঁপ অনেকটাই কমে যাবে।

কী কী পরিবর্তন হতে পারে?
মন্ত্রক সূত্রে খবর, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী একজন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা সরাসরি তাঁর ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলে বারবার আরটিও দপ্তরে গিয়ে নথিপত্র জমা দিয়ে নবীকরণ করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ সময়সাপেক্ষ ও অর্থব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই নিয়ম চালু হলে সেই হয়রানি থেকে মুক্তি মিলবে।

ডিজিটাল পরিষেবার দিকে কেন্দ্র
শুধু লাইসেন্স নয়, পরিবহণ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ যেমন—গাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, পারমিট নবীকরণ ইত্যাদিও সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। এর ফলে পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও কিছু রাজ্য সরকার লাইসেন্স ফি থেকে আসা রাজস্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে কেন্দ্র আশ্বস্ত করেছে যে অনলাইন ফি সংগ্রহের আধুনিক ব্যবস্থা করা হবে যাতে কোনো আর্থিক ক্ষতি না হয়।

ট্রাফিক আইনে ‘নেগেটিভ পয়েন্ট’
লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা হলেও, ট্রাফিক আইন ভাঙলে সরকার আরও কঠোর হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

চালকদের নামে ‘নেগেটিভ পয়েন্ট’ (Negative Point) সিস্টেম চালু হতে পারে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত নেগেটিভ পয়েন্ট জমা হলে লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিলও করা হতে পারে।

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপের কথা ভাবছে প্রশাসন।

বিশেষজ্ঞদের মত:
যদিও এই প্রস্তাবগুলো এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থা অনেক বেশি আধুনিক, কাগজবিহীন এবং নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠবে।

দীর্ঘদিনের এই পুরনো নিয়ম বদলে গেলে তা দেশের কোটি কোটি চালকের দৈনন্দিন জীবনে এক বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।