মেয়রের পদ ছাড়ার পরেই পুর-বৈঠকে ফিরহাদ! ‘শীতল সম্পর্ক’ ভুলে স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে বৈঠক

কলকাতা কর্পোরেশনের বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর এই প্রথম পুর প্রশাসকের ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। বুধবার কলকাতা বন্দরের বিধায়ক হিসেবে তিনি পুরভবনে আয়োজিত প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠকে অংশ নেন। এদিন ফিরহাদ হাকিম ও পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের একই মঞ্চে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
বৈঠকে কারা ছিলেন, কারা অনুপস্থিত?
পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। সেই প্রশাসকের ডাকে সাড়া দিয়েই এদিন বৈঠকে যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম। তবে ফিরহাদ উপস্থিত থাকলেও এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নিতাই চন্দ্র শীল। এছাড়াও শাম্মি জাহান, নিজামুদ্দিন সামস্, সৌরভ চক্রবর্তী, ষষ্ঠী দাসের মতো বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরও এদিন বৈঠকে হাজির ছিলেন।
কী আলোচনা হলো বৈঠকে?
বৈঠক শেষে ফিরহাদ হাকিম জানান, “বিধায়ক হিসেবে আমার এলাকার জমা জল সংক্রান্ত সমস্যা এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কিছু পরামর্শ দিতে এসেছি।” অন্যদিকে, প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, শহরের নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশনগুলোর কার্যকারিতা পরীক্ষার সময় এসে গিয়েছে। যেসব এলাকায় সমস্যা রয়েছে, সেখানে পোর্টেবল পাম্পের মাধ্যমেই জল নিকাশির ব্যবস্থা করা হবে।
বর্ষা ও ডেঙ্গি মোকাবিলায় কড়া বার্তা:
বর্ষার মরশুম সামনে রেখে জল জমার পাশাপাশি ডেঙ্গি ও মশাবাহিত রোগ নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তাও দিয়েছেন প্রশাসক। স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন:
শহরের থানাগুলোকে ভেক্টর পরিস্থিতি নজরদারির জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
পরিত্যক্ত গাড়ি, জমে থাকা জঞ্জাল ও সরকারি আবাসনের পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
পুরসভার পক্ষ থেকে বিপজ্জনক বাড়িগুলোর ওপর নজরদারি শুরু হয়েছে।
প্রতিটি বরোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের পালাবদলের পর পুরসভার প্রশাসনের সঙ্গে বোর্ডের সংঘাত এবং পরবর্তীতে বোর্ড ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ফিরহাদ ও প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডের এই বৈঠক শহরের প্রশাসনিক ভবিষ্যতের দিকে নতুন বার্তা দিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।