তৃণমূলের অন্দরে বড় ভাঙন! পর পর ৩ সাংসদের ইস্তফা, রাজ্যসভায় কমল তৃণমূলের শক্তি

চলতি সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে কার্যত ভাঙনের সুর স্পষ্ট। একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দল ও রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। সোমবার সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগ দিয়ে যে প্রক্রিয়ার শুরু হয়েছিল, তা বুধবার সুস্মিতা দেব এবং বৃহস্পতিবার প্রকাশ চিক বারাইকের ইস্তফায় চরম আকার ধারণ করল।
রাজ্যসভায় কমছে প্রভাব:
প্রকাশ চিক বারাইকের পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে ১০-এ নেমে এল। সূত্রের খবর, দলের এই গণ-ইস্তফা তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।
কার কী অবস্থান?
প্রকাশ চিক বারাইক: বৃহস্পতিবার উপ-রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনের কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। ২০২৩ সালের অগাস্টে রাজ্যসভার সাংসদ হওয়া প্রকাশ চিক বারাইক মূলত উত্তরবঙ্গের চা-বাগান আন্দোলনের পরিচিত মুখ ছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগ আলিপুরদুয়ার এলাকায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তির জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
সুস্মিতা দেব: বুধবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে তিনি ইস্তফাপত্র জমা দেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুস্মিতা জানান, তিনি এখন “মুক্ত ও স্বাধীন”। তবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ না খুললেও, তাঁর এই প্রস্থান রাজনৈতিক মহলে অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সুখেন্দু শেখর রায়: সপ্তাহের শুরুতে সোমবারই তিনি দল ও সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে ঝড় তুলেছিলেন। প্রবীণ এই নেতার প্রস্থান তৃণমূলের জন্য বড় নৈতিক পরাজয় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মমতার মাথাব্যথা:
একদিকে জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-কে মজবুত করার চেষ্টা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে ঘরের ভেতরেই সাংসদদের এমন একের পর এক বিদায় দলের অন্দরে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একে ‘নীতির সংকট’ নাকি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, তা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, সুস্মিতা বা প্রকাশ চিকদের পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যতে দলের আর কোনো সাংসদ এই ইস্তফার তালিকায় যোগ দেন কি না।