রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের হস্তক্ষেপ! এবার ওড়িশা সরকারকে কড়া নির্দেশ PMO-র

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অকাল প্রয়াণের ঘটনায় তদন্তের মোড় ঘুরল কেন্দ্রীয় স্তরে। শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সরাসরি পদক্ষেপের নির্দেশ দিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (PMO)। সর্বভারতীয় চলচ্চিত্র কর্মী সংগঠনের (AICWA) সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তর অভিযোগপত্রের প্রেক্ষিতে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর এবং রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ কী?
‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুতর গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ সংগঠনের। নিয়ম লঙ্ঘনের জেরে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি তাদের। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল (SIT) গঠনের জোরালো দাবি তোলা হয়েছে।
যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল:
AICWA-র চিঠিতে স্পষ্টভাবে প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’, শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুটিংয়ের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের বক্তব্য, শিল্পীদের জীবন কোনোভাবেই শুটিং সেটের অবহেলার বলি হতে পারে না।
তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ:
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশের পর বিষয়টি ওড়িশা সরকারের মাধ্যমে বালেশ্বরের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপারকে দ্রুত তদন্ত শুরু ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের কঠোর অবস্থান:
AICWA-র দাবি, দোষীদের বিরুদ্ধে খুনসহ যাবতীয় ফৌজদারি ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। এমনকি, ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্সকে ব্ল্যাকলিস্ট করার আবেদনও জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো প্রযোজনা সংস্থা নিরাপত্তা নিয়ে এমন গাফিলতি করার সাহস না পায়।
সংগঠনের এক মুখপাত্র জানান, “রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার বিলম্বিত হওয়া উচিত নয়। শুটিং সেটে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আর কোনো কর্মীর প্রাণ যাতে না ঝরে, তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
টলিউড অভিনেতা রাহুলের প্রয়াণের পর থেকেই এই মামলাটি ক্রমশ জটিল ও চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠছে। এখন ওড়িশা পুলিশ এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি।