‘অপরাধে সরাসরি যুক্ত অভিষেক!’ বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলায় আদালতে বড় ধাক্কা তৃণমূল সাংসদের

তৃণমূলের অন্দরে আইনি টানাপোড়েন ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মধ্যেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় বিপত্তি। বিধায়কদের সই জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে খোদ রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি (CID) আদালতে দাঁড়িয়ে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানাল।
আদালতে সিআইডি-র অবস্থান:
এদিন শুনানির সময় সিআইডি-র আইনজীবীরা জানান, জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই তিনটি নোটিস পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সবকটি নোটিসের মেয়াদ শেষ হলেও তিনি হাজিরা দেননি। ফলে তাঁকে নতুন করে কোনো আইনি রক্ষাকবচ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তদন্তকারীদের স্পষ্ট দাবি, অভিষেক চাইলে তদন্তে সহযোগিতা করতে সিআইডি দফতরে হাজিরা দিতে পারেন, কিন্তু আদালতের কাছে তিনি কোনো বিশেষ ছাড় পাওয়ার যোগ্য নন।
কেন এই জালিয়াতির অভিযোগ?
সিআইডি আদালতে বেশ কিছু তথ্য ও প্রমাণের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছে:
ভুয়া স্বাক্ষর: বিধানসভার রেজোলিউশনে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর ছিল, যা নিয়ে পরবর্তীতে বিতর্ক দানা বাঁধে।
বিধায়কদের বয়ান: সিআইডি-র দাবি, অনেক বিধায়কই বয়ান দিয়েছেন যে, রেজোলিউশনে উল্লিখিত নির্দিষ্ট তারিখে তাঁরা উপস্থিতই ছিলেন না। অথচ সেই নথিতে তাঁদের স্বাক্ষর কীভাবে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সরাসরি যোগের অভিযোগ: তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবীদের অভিযোগ, “তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, এই অপরাধের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি যুক্ত এবং তিনিই এটি করেছেন।”
কেন হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন?
সিআইডি আদালতকে জানিয়েছে, এই বিশাল জালিয়াতির শিকড়ে পৌঁছাতে এবং ঘটনার সত্য উদ্ঘাটন করতে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা ছাড়া তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক তাৎপর্য:
তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ এবং আইনি লড়াই থেকে সরে আসার ঠিক পরেই সিআইডি-র এই কঠোর অবস্থান রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। দলের অন্দরের ভাঙন ও সরকারের তদন্তকারী সংস্থার এই কঠোর ভূমিকা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আগামী দিনে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গোটা ঘটনাটি এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কাছে এক বড় পরীক্ষার মতো দাঁড়িয়েছে। একদিকে নিজের দলের সাংসদ, অন্যদিকে রাজ্য পুলিশের নিজস্ব তদন্তকারী সংস্থা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী কৌশল নেয়, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক আঙিনা।