তৃণমূলে ধস! সুস্মিতার পর ইস্তফা প্রকাশ বারাইকেরও, মমতার ওপর ক্রমশ আলগা হচ্ছে রাশ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসে এখন চরম অস্থিরতার সময়। বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দল ও নেত্রীর জন্য বড়সড় ধাক্কা দিলেন প্রকাশ চিক বারাইক। এই সপ্তাহে একে একে দলের ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহের দাবানল’কেই যেন আরও উসকে দিল।

এক সপ্তাহে ৩ সাংসদের বিদায়:
চলতি সপ্তাহেই দলের প্রবীণ নেতা সুখেন্দু শেখর রায় পদত্যাগ করে দলের অন্দরে সংকটের সূচনা করেছিলেন। তার রেশ কাটতে না কাটতেই বুধবার কংগ্রেসের প্রাক্তন নেত্রী সুস্মিতা দেব দল ছাড়েন। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এবার প্রকাশ চিক বারাইকের ইস্তফা দলের ভিত্তিকে আরও নড়বড়ে করে দিল। সূত্রের খবর, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তৃণমূলের আরও অন্তত ৩ জন রাজ্যসভা সাংসদ একই পথে হাঁটতে পারেন। এই পদত্যাগের ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে ১০-এ নেমে এল।

কেন এই ইস্তফা?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে পরিচিত প্রকাশ চিক বারাইক ২০২৩ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে আলিপুরদুয়ার থেকে তাঁকে প্রার্থীও করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি পরাজিত হন। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ও সচিবালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও, দল ছাড়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শাননি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরেই এই সিদ্ধান্ত।

বিধায়ক মহলে অভূতপূর্ব বিদ্রোহ:
সাংসদদের পাশাপাশি বিধায়ক মহলেও মমতার নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ শিথিল হয়ে আসছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে বর্তমান হিসেবে প্রায় ৬৪ জনই এখন বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ঋতব্রতকে সমর্থন জানানোয় পরিষ্কার যে, দলের একটি বড় অংশ মমতা-বিরোধী শিবিরে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, আগামী দিনে এই বিদ্রোহ আরও তীব্র হবে এবং বিধায়ক সংখ্যা আরও বাড়বে।

দিল্লিতে বৈঠকের মধ্যেই চরম সংকট:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাদের সঙ্গে আগামী দিনের রণকৌশল নিয়ে বৈঠক করছেন, তখনই রাজ্যে দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতি তৃণমূলের জাতীয় রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে প্রবল সংকটে ফেলে দিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয় এবং পরবর্তী ধারাবাহিক এই বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।