দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ, তবুও দল বদলের পথে নন প্রতিমা? তৃণমূল সাংসদের মন্তব্যে শোরগোল

দিল্লির তৃণমূল শিবিরের ‘গোপন’ বৈঠক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল অব্যাহত। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে সাংসদদের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে সই-তালিকাকে ঘিরে বিতর্ক। সেই তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল এবার সরাসরি মুখ খুললেন, যা নতুন করে অস্বস্তি বাড়াল তৃণমূলের অন্দরে।
কী বললেন প্রতিমা?
সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, প্রায় ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের একাংশের বিক্ষুব্ধ কার্যকলাপে সামিল হয়েছেন। সেই তালিকায় প্রতিমা মণ্ডলের নামও ছিল বলে জল্পনা ছড়ায়। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রতিমা টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি কারও বাড়িতে যাইনি। ৪ তারিখে এস্টিমেট কমিটির বৈঠক ছিল, সেখানে যোগ দিতেই ৩ তারিখ রাতে দিল্লিতে গিয়েছিলাম। ৪ তারিখ বিকেল ৪টে ১০-এর বিমান ধরে সোজা কলকাতায় ফিরে এসেছি।”
কাগজ দেখানোর চ্যালেঞ্জ
নিজে কোনো কাগজে সই করেননি বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন প্রতিমা। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উদ্দেশে তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, “১৯ জনের সইয়ের কথা বলা হচ্ছে, কাগজটা দেখান না! আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার নিজের। যারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন, তারা বললে আমি সরে যাব। কিন্তু কেউ আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।” এমনকি কাকলির সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো কথা হয়নি বলেও তিনি জানান।
দুর্নীতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের অন্যতম দাবি হলো, দুর্নীতির জেরেই দলের এই বিপর্যয়। প্রতিমা মণ্ডলের গলাতেও সেই একই সুর শোনা গেল। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “দুর্নীতি হয়েছে বলেই তো আমরা নির্বাচনে হেরেছি।” তবে এই বিপর্যয়ের সময় দলের বিরুদ্ধাচরণ করা বা দলবদল করার পক্ষপাতী তিনি নন। তাঁর কথায়, “দলের বিপদের দিনে দলকে আরও কালিমালিপ্ত করা আমি মেনে নিতে পারছি না।”
রাজনৈতিক পরিস্থিতি
তৃণমূলের অন্দরে এই ভিন্ন সুর নিঃসন্দেহে দলের জন্য চাপের। দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও, প্রতিমার মতো সাংসদদের এই অবস্থান পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, সবাই সহজে দল ভাঙার খেলার শরিক হতে রাজি নন। এখন দেখার, কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয়।