ফ্রান্স নয়, মোদীর সফরের আসল চমক স্লোভাকিয়া! কেন এই ছোট্ট দেশে গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত?

ইউরোপ সফরের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কর্মসূচি নিয়ে সাজ সাজ রব কূটনৈতিক মহলে। ১৩ জুন থেকে পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি ফ্রান্সের পাশাপাশি পা রাখবেন স্লোভাকিয়াতেও। তালিকার শীর্ষ গন্তব্য ফ্রান্স হলেও, নয়াদিল্লির কাছে স্লোভাকিয়ার গুরুত্ব এখন তুঙ্গে। কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য স্লোভাকিয়ায় এটিই প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। প্রশ্ন উঠছে, মাত্র ৫৫ লক্ষ জনসংখ্যার এই ছোট্ট দেশটি কেন মোদীর ‘ইউরোপ স্ট্র্যাটেজি’র কেন্দ্রবিন্দুতে?

গাড়ি তৈরির বিশ্ব রাজধানী স্লোভাকিয়া
আয়তনে ছোট হলেও বিশ্ব অর্থনীতিতে স্লোভাকিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। দেশটি দীর্ঘ সময় ধরে মাথাপিছু গাড়ি উৎপাদনে বিশ্বে শীর্ষস্থান দখল করে আছে। বিশ্বের বাঘা বাঘা গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বড় কারখানা রয়েছে সেখানে। ভারত বর্তমানে নিজের উৎপাদন সক্ষমতা ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন শক্তিশালী করতে চাইছে। ফলে অটোমোবাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাডভান্সড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের ক্ষেত্রে স্লোভাকিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ভারতের জন্য হতে পারে গেম-চেঞ্জার।

নতুন কৌশলে ভারত
এতদিন ইউরোপের সাথে ভারতের সম্পর্ক মূলত ফ্রান্স, জার্মানি বা ইতালির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ায় ভারত এখন মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে। স্লোভাকিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর সদস্য হওয়ায়, এই দেশটির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভারতকে ইউরোপীয় বাজারের গভীরে প্রবেশের ছাড়পত্র দেবে।

সফরটি কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আলাপ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রস্তুতির অংশ। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি: নতুন নতুন শিল্প সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা।

ভূ-রাজনৈতিক উপস্থিতি: মধ্য ইউরোপে নিজেদের প্রভাববলয় বাড়ানো।

ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশাধিকার: ন্যাটোর সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার সাথে সুসম্পর্ক ভারতের পণ্য ও পরিষেবাকে ইউরোপের বাজারে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

বদল আসছে ভারতের বিদেশনীতিতে
ফ্রান্সের মতো পরিচিত দেশগুলোর বাইরেও যে ভারত এখন নতুন অংশীদার খুঁজছে, স্লোভাকিয়া সফর তারই প্রমাণ। বিশ্ব রাজনীতিতে ভারত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রো-অ্যাক্টিভ। প্রতিরক্ষা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির বিনিময়ে নতুন মিত্র খোঁজার এই লড়াইয়ে স্লোভাকিয়া হয়ে উঠতে পারে ভারতের অন্যতম প্রধান সহযাত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর একদিকে যেমন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, তেমনি ইউরোপে ভারতের কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।