দিল্লিতে সোনিয়া-মমতা বৈঠক! কংগ্রেস-তৃণমূল কি এক হতে চলেছে? কী পেলেন অভিষেক?

জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ফের একবার উঠে এল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বৈঠক। দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধী জোটের অন্দরে কংগ্রেস-তৃণমূল সংযুক্তিকরণ নিয়ে নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছিল। তবে সাম্প্রতিক এই দিল্লি সফর এবং বৈঠকের পর সেই জল্পনা এখন তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এক বড় ধরনের রদবদলের ইঙ্গিত মিলছে।

কী উঠে আসছে কংগ্রেস সূত্রে?
দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বৈঠকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং সাংগঠনিক স্তরে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কংগ্রেসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রস্তাব দিয়েছে হাত শিবির। কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে তাঁদের অংশগ্রহণ করানোর বিষয়টিও নাকি উঠে এসেছে আলোচনার টেবিলে।

ঋতব্রতর সাফ বার্তা, অস্বস্তি কি বাড়ছে?
এই জল্পনার মধ্যেই সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কংগ্রেসে দলবদলের সম্ভাবনা বা সংযুক্তিকরণ নিয়ে যে চর্চাই হোক না কেন, কংগ্রেসে ফিরে গেলেও সেখানে ‘বিদ্রোহীদের’ জন্য কোনো জায়গা নেই। ঋতব্রতর এই মন্তব্য কি কেবলই ব্যক্তিগত, নাকি এর পেছনে তৃণমূলের অন্দরের কোনো চাপা ক্ষোভ লুকিয়ে আছে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।

নতুন সমীকরণের নেপথ্যে কী?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে আঞ্চলিক দলগুলোর প্রভাবকে অস্বীকার করার উপায় নেই। কংগ্রেসও সেটি বিলক্ষণ বুঝতে পারছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় স্তরের কোনো পদে নিয়ে আসা বা ইন্ডিয়া জোটে তৃণমূলের ভূমিকা আরও জোরদার করার অর্থ হলো, ২০২৬-এর পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া।

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই নিজের দলের স্বকীয়তা বজায় রাখার পক্ষে। এমতাবস্থায়, তৃণমূল কি নিজের পরিচিতি খুইয়ে কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় জাতীয় রাজনীতিতে বড় কোনো ভূমিকা নেবে, নাকি এটি কেবলই রাজনৈতিক কৌশলের অংশ—তার উত্তর খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।

দিল্লির এই বৈঠকের পর তৃণমূল ও কংগ্রেসের সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণ জাতীয় রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।