আরামবাগে ফের শুরু একশো দিনের কাজ! নতুন সরকারের উদ্যোগে হাসি ফুটল প্রান্তিক মানুষের মুখে

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। রাজ্যে পালাবদলের পরেই একশো দিনের কাজে নতুন আশার আলো দেখল হুগলির আরামবাগ। তৃণমূল সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ তছরূপ ও ভুয়ো জব কার্ডের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একশো দিনের কাজ নতুন সরকারের উদ্যোগে ফের শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ মানুষ।
গোঘাটে কর্মযজ্ঞের সূচনা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার মাস পূর্ণ হতে না হতেই আরামবাগের গোঘাটে নতুন করে শুরু হলো জব কার্ডের কাজ। বুধবার থেকে গোঘাটের সাওড়া পঞ্চায়েত এলাকার গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কাজের জোয়ার লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব কাটিয়ে হাতে কাজ ফিরে পাওয়ায় স্থানীয় জব কার্ড হোল্ডারদের মুখে হাসি ফুটেছে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ
এই প্রকল্পের পুনরুজ্জীবন নিয়ে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার। তিনি অভিযোগ করেন, “২০১৯ সাল থেকেই আগের তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে একশো দিনের কাজের সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছিল। জব কার্ডের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল এবং বাস্তবের সঙ্গে তাদের কাজের কোনো মিল ছিল না।”
মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ চরম সংকটে পড়েছিলেন। নতুন সরকারের উদ্যোগে এই প্রকল্প ফের চালু হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা অজিত রায় বলেন, “আগের সরকার বাড়িতে বসে থাকা ভুয়ো ব্যক্তিদের নামে টাকা আত্মসাৎ করত। আমরা পরিশ্রম করেও কাজ পেতাম না। এবার কাজ ফিরে পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি।”
স্থানীয় বিজেপি কর্মী নবকুমার মণ্ডল এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করেছেন। মানুষ এবার কঠোর পরিশ্রম করে ছেলেমেয়েদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার সুযোগ পেলেন।”
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, একশো দিনের কাজের মতো একটি জনমুখী প্রকল্প পুনরায় চালু হওয়া নতুন সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ ও মাইলফলক ছিল। আরামবাগের এই কর্মকাণ্ড রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের জন্যও একটি নজির হয়ে রইল। দুর্নীতির অভিযোগ কাটিয়ে স্বচ্ছভাবে এই প্রকল্প পরিচালনা করাই এখন নতুন সরকারের সামনে প্রধান লক্ষ্য।