ইরানের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম কি ছিনিয়ে নেবে আমেরিকা? ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘গোপন ছক’ ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক

২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের ফোর্দো ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বি-২ বোমারু বিমানের ব্যর্থ অভিযানের পর, ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের অন্দরে তৈরি হয়েছে এক নতুন ও ভয়ংকর রণকৌশল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবার সরাসরি ইরানের মাটিতে বিশেষ বাহিনী (Special Forces) পাঠিয়ে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ জোরপূর্বক দখলের কথা ভাবছেন।

কৌশলের পরিবর্তন: আকাশ থেকে এবার মাটিতে
গত বছর জুনে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর মাধ্যমে ১৪টি বিশাল বাঙ্কার-বাস্টার বোমা নিয়েও ইরানের পাহাড়ে লুকানো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করা যায়নি। পেন্টাগন ও মোসাদের বিশ্লেষকদের মতে, বাঙ্কার-বাস্টার দিয়ে যখন কাজ হচ্ছে না, তখন সমাধান একটাই—বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে স্থাপনায় প্রবেশ করে ইউরেনিয়াম বের করে আনা। ট্রাম্প দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে সামরিক পদক্ষেপই শেষ রাস্তা।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কি সম্ভব?
যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযান নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন দেশে তারা অনুরূপ অভিযান চালিয়েছে:

অপারেশন আলসোস (১৯৪৫): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগেই জার্মানির ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার ও প্রযুক্তি হস্তগত করে মার্কিন বাহিনী।

প্রজেক্ট স্যাফায়ার (১৯৯৪): সোভিয়েত পতনের পর কাজাখস্তান থেকে ৬০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম গোপনে আমেরিকায় সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

লিবিয়া ও ভেনিজুয়েলা: গাদ্দাফির আমলের পারমাণবিক নথি ও সরঞ্জাম এবং সম্প্রতি ২০২৬ সালের মে মাসে ভেনিজুয়েলার গবেষণা চুল্লি থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কেন ইরান অপারেশনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ?
ঐতিহাসিক সাফল্যের উদাহরণ থাকলেও ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। কাজাখস্তান বা ভেনিজুয়েলার অভিযানে স্থানীয় সরকারের সম্মতি ছিল, কিন্তু ইরান একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাদের রয়েছে:
১. আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী।
২. হাজার হাজার ড্রোন ও প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ।
৩. পাহাড়ের শত শত ফুট নিচে সুরক্ষিত পারমাণবিক কেন্দ্র।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের স্থাপনাগুলোয় বিশেষ বাহিনী নামানো কার্যত একটি ‘আত্মঘাতী অভিযান’। পেন্টাগনের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই অভিযানে ছোটখাটো ভুলও সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাবিপর্যয়কর পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে?
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুদ এখন এক গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে। ঐতিহাসিক সাফল্যের নেশায় তারা যদি এই পথে হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা কেবল ইরান নয়, গোটা পৃথিবীর নিরাপত্তাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ‘প্রজেক্ট স্যাফায়ার’-এর পুনরাবৃত্তি করা কাগজ-কলমে সহজ মনে হলেও, বাস্তবের রণক্ষেত্র যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার আঁচ পাচ্ছেন খোদ মার্কিন গোয়েন্দারাই।

এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—এটি কি ইতিহাসের আরেকটি সফল অভিযান হবে, নাকি এক নতুন বিশ্বযুদ্ধের সূচনা?