তৃণমূলে বড় ভাঙন! রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা সুস্মিতা দেবের, দলের ওপর কি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন মমতা?

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা এখন চরমে পৌঁছেছে। দলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও সাংসদের পদত্যাগ তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। সবশেষ ঘটনায়, রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন সাংসদ সুস্মিতা দেব। পদত্যাগের পরপরই তাঁর আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে।
সুস্মিতা দেবের পথচলা ও দলত্যাগ
২০২১ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন সুস্মিতা দেব। দলে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জাতীয় মুখপাত্র ও রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। তবে তাঁর এই হঠাৎ পদত্যাগ ফের প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংহতি নিয়ে। তাঁর আগে রাজ্যসভা থেকে সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগও এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি ও পাল্টা চ্যালেঞ্জ
তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহ এখন প্রকাশ্যে। বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দাবি করেছেন, দলের প্রায় ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং এই বিষয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিরলাকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, পার্থ ভৌমিকের মতো বিদ্রোহী নেতারা দিল্লির দলীয় কার্যালয় খালি করার দাবি তুলে দলের নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন।
এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় মাঠে নেমেছেন দলের প্রবীণ নেতা কল্যাণ ব্যানার্জী। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যদি ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ করে থাকেন, তবে কেন তাঁদের নাম গোপন রাখা হচ্ছে? নৈতিকভাবে যদি মতপার্থক্য থাকে, তবে পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত।” মমতা শিবিরের দাবি, সংসদে পৃথক গোষ্ঠী গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৯ জনের সমর্থন বিদ্রোহী শিবিরের কাছে নেই।
মমতা ব্যানার্জীর সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বিপর্যয়ের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস। গত ১৫ বছরের দীর্ঘ শাসনে এই প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে নিজের আসন ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলত্যাগ থেকে শুরু করে বিধায়ক ও সাংসদদের বিদ্রোহ—এই মুহূর্তে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দলীয় কার্যালয় খালি করা থেকে শুরু করে নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ—সব মিলিয়ে এখন সবার নজর লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। তৃণমূল কংগ্রেস কি এই ভাঙন সামলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, নাকি রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যাবে—সেই উত্তরই এখন সময়ের অপেক্ষায়।