মাটি খুঁড়তেই মিলল মুঘল আমলের গুপ্তধন! রুপোর মুদ্রার লোভে রাতে মাঠ খুঁড়লেন গ্রামবাসীরা

বিহারের তারায়াসুজন থানা এলাকার গোপালপুর গ্রামের টোলা ওঝাভালিয়ায় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হলো মুঘল আমলের শত শত রুপোর মুদ্রা। এই ঐতিহাসিক আবিষ্কার ঘিরে এলাকায় যেমন চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তেমনই গ্রামবাসীদের মধ্যে ছড়িয়েছে মুদ্রা সংগ্রহের হিড়িক। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল যে, পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, রাধেশ্যাম বর্মা নামে এক ব্যক্তির জমিতে খননকাজ চালানোর সময় একটি প্রাচীন পিতলের পাত্র মাটির নিচে পাওয়া যায়। পাত্রটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ হওয়ায় মাটি থেকে তোলার সময় তা ভেঙে টুকরো হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা প্রাচীন রুপোর মুদ্রাগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
মুঘল যুগের চিহ্ন?
মুদ্রাগুলোর প্রাথমিক নকশা ও লিপি দেখে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এগুলো প্রায় ১৬৪০ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ মুঘল আমলের। মুদ্রাগুলোতে আরবি, উর্দু বা ফারসি লিপির খোদাই রয়েছে। তবে এগুলোর সঠিক ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সময়কাল নিশ্চিত হতে ‘ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ’ (ASI)-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় প্রশাসন।
লুটপাটের সাক্ষী গ্রাম
গুপ্তধন পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে শত শত মানুষ ভিড় জমান ওই মাঠে। ট্রাক্টর চালক থেকে শুরু করে স্থানীয় গ্রামবাসীরা— প্রত্যেকেই হুড়োহুড়ি করে মুদ্রা সংগ্রহে মেতে ওঠেন। এমনকি রাতের অন্ধকারেও কোদাল ও টর্চলাইট নিয়ে গুপ্তধনের আশায় মাঠ খুঁড়তে থাকেন অনেকে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে রীতিমতো বেগ পেতে হয়।
পুলিশের তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ
পরদিন তারায়াসুজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিতিন রঘুনাথ শ্রীবাস্তব পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। খামারের মালিক রাধেশ্যাম বর্মা সততার পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে থাকা ৩৩০টি রুপোর মুদ্রা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। বাকি মুদ্রাগুলো যারা সংগ্রহ করেছেন, তাদের খুঁজে বের করার জন্য পুলিশ জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে। প্রশাসন কড়া বার্তা দিয়েছে যে, এই মুদ্রাগুলো জাতীয় ঐতিহ্য, তাই যার কাছেই এগুলো রয়েছে, তিনি যেন অবিলম্বে পুলিশের কাছে জমা দেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিহাসের সাক্ষী এই রুপোর মুদ্রাগুলো উদ্ধার হওয়া নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে অধিকাংশ মুদ্রা গ্রামবাসী ও ট্রাক্টর চালকদের হাতে চলে যাওয়ায় তা পুনরুদ্ধারে এখন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।