সীমান্তে আর ড্রোন আতঙ্ক নয়! ভারত আনছে নিজস্ব প্রযুক্তির ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ সিস্টেম

দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ড্রোন তৎপরতা, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের মতো উদ্বেগজনক ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, কেন্দ্র নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন’ ব্যবস্থা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি দেশের সীমান্তকে আরও আধুনিক ও সুরক্ষিত করে তুলবে।
স্মার্ট বর্ডার গ্রিডের পথে ভারত
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় সরকার ‘স্মার্ট বর্ডার গ্রিড’ তৈরির কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করছে। এই ব্যবস্থায় কেবল ড্রোন অনুপ্রবেশ রোধ নয়, বরং যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কার্যকলাপ ও আন্তঃসীমান্ত হামলা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হবে স্মার্ট সেন্সর, অত্যাধুনিক রাডার, এআই (AI)-ভিত্তিক ক্যামেরা এবং ডিজিটাল নজরদারি নেটওয়ার্ক।
কেন এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা?
পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীরের মতো সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, মাদক ও বিস্ফোরক পাচারের চেষ্টা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। হাইব্রিড যুদ্ধের এই যুগে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ঢেলে সাজাতে সরকার ‘৪-স্তরের নিরাপত্তা বলয়’ গড়ে তুলছে। এই বলয়ের চারটি স্তম্ভ হলো:
১. নিরাপত্তা বাহিনী: বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (BSF) এবং সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর জোরালো উপস্থিতি।
২. আধুনিক প্রযুক্তি: অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ও এআই প্রযুক্তির ব্যবহার।
৩. প্রশাসনিক সহায়তা: স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সক্রিয় নজরদারি।
৪. জনঅংশগ্রহণ: সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা ও সহায়তা।
নিরাপদ সীমান্তের নতুন রূপকল্প
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা কেবল নির্দিষ্ট বাহিনীর ওপর ছেড়ে রাখলে তা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষকে একটি দল হিসেবে কাজ করতে হবে। ‘স্মার্ট বর্ডার’ বা দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার মাধ্যমে এই সমন্বিত রূপকল্পই বাস্তবায়ন করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং বাহিনীর সক্রিয়তায় ভারত তার সীমান্তকে বাইরের যেকোনো ধরনের হুমকি থেকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা তৈরি হওয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর হবে।