‘আমিই শেষ কথা!’ মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি? সব্যসাচী দত্তের কুকীর্তি নিয়ে তোলপাড়

বিধাননগরের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের গ্রেফতারি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তুঙ্গে। ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার পর, এবার সব্যসাচীর বিরুদ্ধে একের পর এক অডিও ও ভিডিও ক্লিপ সামনে আসছে, যা তাঁর দাপুটে এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মুখোশ খুলে দিয়েছে।
‘আমিই শেষ কথা’: মুখ্যমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হুমকি!
অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর দাবি, ২০১৮ সালে বিধায়ক ও মেয়র থাকাকালীন সব্যসাচী দত্ত তাঁকে সরাসরি হুমকি দিতেন। ব্যবসায়ীর কথায়, সব্যসাচী তাঁকে বলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাকে কিছু করতে পারবেন না। এই এলাকায় আমিই শেষ কথা।” ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি কীভাবে ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের থেকে তোলা আদায় করতেন, তা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সিসিটিভি ফুটেজে তোলা আদায়ের প্রমাণ
ব্যবসায়ী মধুসূদন চক্রবর্তীর অফিসের সিসিটিভি ফুটেজে এক চাঞ্চল্যকর ছবি ধরা পড়েছে। ২০১৮ সালের সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সব্যসাচী দত্তের ব্যক্তিগত প্রতিনিধি বিমল গাঙ্গুলি ব্যবসায়ীর অফিসে এসে টাকা সংগ্রহ করছেন। অভিযোগকারীর দাবি, সব্যসাচীর নির্দেশেই ওই প্রতিনিধি আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজের পাশাপাশি, কোটি টাকা চাওয়ার অডিও ক্লিপও এখন প্রকাশ্যে, যেখানে সব্যসাচীকে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে টাকা হস্তান্তরের জন্য বারবার চাপ দিতে শোনা যাচ্ছে।
তোলাবাজির ‘সিন্ডিকেট’ ও জনরোষ
শুধু ১ কোটি টাকাই নয়, অভিযোগকারীর দাবি, সব্যসাচীর জমানায় ছোট ছোট কাজ বা বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নিয়ম ছিল টাকা দেওয়ার। তিনি বলেন, “বাড়ি কিনতে গেলে বা বেচতে গেলে তোলা দিতেই হতো, না দিলে মারধরের হুমকি আসত।”
মঙ্গলবার সব্যসাচীকে আদালত থেকে বের করার সময় জনরোষ আছড়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা তাঁর দিকে ডিম ও পচা কলা ছুড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, “গরিবের রক্ত চুষে খেতেন সব্যসাচী।”
সব্যসাচীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে বিধাননগর পুলিশ। পুলিশের হাতে থাকা অডিও-ভিডিও প্রমাণ এবং ব্যবসায়ীদের সাক্ষ্য সব্যসাচীর আইনি লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।