‘নবান্ন’ নামটিও চুরির ফসল? প্রশাসনিক সদর দপ্তরের নাম নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ব্যবসায়ীর

তৃণমূল জমানায় বালি, কয়লা, গরু ও চাকরি চুরির মতো বিভিন্ন অভিযোগের পর এবার রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তরের নাম—‘নবান্ন’—নিয়েও উঠল চুরির অভিযোগ। অভিযোগকারীর দাবি, ‘নবান্ন’ নামটি আসলে তাঁর মালিকানাধীন ছিল এবং সরকারি চাপে তিনি তা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

কী অভিযোগ ব্যবসায়ীর?
দুর্গাপুরের বাসিন্দা ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, তিনি ২০০৮ সালেই ‘নবান্ন’ নামটি ট্রেডমার্কের জন্য পেটেন্ট অফিসে আবেদন করেছিলেন এবং ২০০৯ সালে তা অনুমোদিতও হয়। তাঁর রেস্তোরাঁটি সেই নামেই বাণিজ্যিকভাবে চলছিল। সুপ্রিয়বাবুর অভিযোগ, ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্দেশ পাঠানো হয় যে, ‘নবান্ন’ ও ‘উত্তরকন্যা’ নাম দুটি আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারি নির্দেশে শেষপর্যন্ত তিনি তাঁর রেস্তোরাঁর নাম পরিবর্তন করে ‘পার্বণ’ করতে বাধ্য হন।

আর্থিক ক্ষতি ও ব্যবসায়ীর ক্ষোভ
সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, এই নাম পরিবর্তনের ফলে তাঁর প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “নবান্ন নামে যা কিছু ছিল, সবই পরিবর্তন করতে হয়েছে। শুধু কাঁসার বাটিগুলোতে খোদাই করা নামগুলো পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি।”

বাম আমলে রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তর ছিল রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ। পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার হাওড়ার গঙ্গার পাড়ে বর্তমান ভবনে দপ্তরের কাজ শুরু করে এবং এর নামকরণ করা হয় ‘নবান্ন’। বর্তমানে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে এই অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তৃণমূল জমানায় যেভাবে দুর্নীতির একের পর এক অভিযোগ উঠেছে, তাতে এই নামকরণের বিষয়টিও সেই চুরির বৃত্তকেই সম্পূর্ণ করল।

প্রশাসনিক দপ্তরের নামকরণের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে পেটেন্ট সংক্রান্ত আইন বা নিয়মাবলি কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তবে এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।