ইতিহাস গড়লেন মোদী! নেহরুর রেকর্ড ভেঙে ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বজুড়ে অভিনন্দনের বন্যা

ভারতের শাসনব্যবস্থায় এক নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন নরেন্দ্র মোদী। ৪,৩৯৯ দিনের নিরবচ্ছিন্ন কার্যকাল পূর্ণ করে তিনি দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দীর্ঘ মেয়াদের রেকর্ড অতিক্রম করলেন। ১৯৫২ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর নেহরু ৪,৩৯৮ দিন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই মাইলফলক ছুঁয়ে মোদী এখন ভারতের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও নেতাদের অভিনন্দন
প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই ‘যুগান্তকারী’ সাফল্যে তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের বহু রাষ্ট্রনেতা। তাঁর অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর পক্ষে বলিষ্ঠ অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তাঁরা।

জন কর্নিন (মার্কিন সিনেটর): এক্স হ্যান্ডেলে তিনি মোদীকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, “তিনটি গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট অর্জন করে ১৪০ কোটি মানুষের আস্থা জয়ের এই যাত্রাপথ সত্যিই বৈপ্লবিক। ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনা এবং ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধমান অর্থনীতির দেশে পরিণত করা তাঁর এক অনন্য কৃতিত্ব।”

অনুরা কুমারা দিসানায়েকে (শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি): এক বিশেষ চিঠিতে তিনি বলেন, মোদীর দূরদর্শী চিন্তাধারা কেবল ভারতের সীমানাতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা শ্রীলঙ্কাসহ বহু দেশকে অনুপ্রাণিত করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে মোদীর শ্রীলঙ্কা সফরের সময় তাঁকে সে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘মিত্র বিভূষণ’-এ ভূষিত করা হয়।

জেমস মারাপে (পাপুয়া নিউ গিনির প্রধানমন্ত্রী): ভিডিও বার্তায় মোদীকে ‘নেতৃত্বের আদর্শ ও দৃষ্টান্ত’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ২০ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেওয়ার সাফল্যকে তিনি ‘বিস্ময়কর’ বলে বর্ণনা করেছেন।

কমলা প্রসাদ-বিসেসার (ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী): সাধারণ পটভূমি থেকে উঠে এসে টানা তিন মেয়াদে এক বিশাল দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মোদীর সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, মোদীর নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে ভারত আজ এক অগ্রগণ্য কণ্ঠস্বর।

মোদীর এই মেয়াদের মূল দিকসমূহ
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দারিদ্র্য বিমোচন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং শক্তিশালী বিদেশনীতির ওপর ভর করেই এই দীর্ঘ যাত্রা সম্ভব হয়েছে। ‘প্রতিবেশী-প্রথম’ (Neighbourhood First) নীতি হোক কিংবা প্যাসিফিক দ্বীপপুঞ্জের দেশগুলোর সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্থাপন—মোদী সরকারের এই মেকাল ভারতের বৈশ্বিক প্রভাবকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইন্দিরা গান্ধীর ১৪ বছরের দীর্ঘ শাসনকালের কথা বারবার উঠে এলেও, মোদীর এই রেকর্ডটি নিরবচ্ছিন্ন বা বিরতিহীন হওয়ার কারণে ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।