দিল্লিতে বাঙালি অধ্যাপিকা খুনে চাঞ্চল্য! বর্ধমান থেকে গ্রেফতার দম্পতি, নেপথ্যে সম্পত্তি বিবাদ?

দিল্লির ফ্ল্যাটে সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের নৃশংস খুনের ঘটনায় পর্দা ফাঁস করল পুলিশ। ঘটনার চার দিনের মাথায় বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হলো অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া দম্পতি রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দাসকে। সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে এই ঠান্ডা মাথার খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: পেশায় সহকারী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পাল দিল্লিতে নিজের ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। দেবস্মিতার দিদি নিউ অশোকনগর থানায় ফোন করে অভিযোগ জানানোর পর, পুলিশ ওই ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে অধ্যাপিকার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করে।

কেন এই নৃশংস খুন? তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানতে পারে, বর্ধমানের ওই দম্পতি আগে থেকেই দেবস্মিতার দাদুর বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। প্রায় দু’বছর ধরে তাঁরা সেখানে ৬টি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সম্প্রতি দেবস্মিতা ও তাঁর মা অঞ্জলি পাল ওই দম্পতিকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। কিন্তু তারা ঘর ছাড়তে রাজি ছিলেন না। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, এই সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদই শেষ পর্যন্ত খুনের রূপ নেয়।

সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল কারসাজি: দিল্লি পুলিশের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ঘটনার দিন দুপুরে দেবস্মিতার ফ্ল্যাট চত্বরে ওই দম্পতিকে দেখা যায়। পুলিশ জানায়, ঢোকার সময় তাদের পরনে এক ধরণের পোশাক ছিল, কিন্তু বেরিয়ে যাওয়ার সময় তারা পোশাক বদলে ফেলেছিল। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

কীভাবে এল ধরা: রবিবার দিল্লি পুলিশের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল বর্ধমানে এসে পৌঁছায়। বাদামতলায় অভিযুক্তদের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও সাড়া না মেলায়, পাঁচিল টপকে ভেতরে ঢোকে পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর রামপ্রসাদ ও বনশ্রী দাসকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কেবল খুন নয়, প্রতারণারও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ওই দম্পতি টাকা ও গয়না নিয়ে দোকান দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করেছে এবং ঘটনার পর থেকেই ফেরার ছিল।

দিল্লি পুলিশ এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখছে—এই খুনের পেছনে কেবল সম্পত্তি বিবাদ নাকি অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। অভিযুক্তদের জেরা করে ঘটনার আরও বিশদ জানার চেষ্টা চলছে।