‘দলের স্বৈরাচারী মনোভাবের জন্য অভিষেকই দায়ী!’ বিস্ফোরক অজমল সিদ্দিকী

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে সংকট যেন থামার নাম নিচ্ছে না। একে একে দলের বড় নেতারা দল ছাড়ছেন। সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন—তৃণমূলের রাজ্য সংখ্যালঘু সেলের সম্পাদক অজমল সিদ্দিকী। শনিবার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তিনি তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন।
পদত্যাগের কারণ ও অভিষেকের দিকে অভিযোগের আঙুল:
মাত্র দু’দিন আগে হজ পালন করে ফিরেছেন অজমল সিদ্দিকী। বাড়ি ফিরে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “দলটি কেবল দুর্নামই বয়ে আনছে। অধিকাংশ সদস্যই বিভিন্ন অরুচিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। দিনের পর দিন কেলেঙ্কারি সামনে আসছে, যা জনমানসে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।”
দলীয় সংকটের জন্য সরাসরি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর ‘স্বৈরাচারী মনোভাব’কে দায়ী করেছেন তিনি। অজমল সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, “অভিষেক ব্যানার্জীর স্বৈরাচারী মানসিকতার কারণেই আমরা দীর্ঘ দিন ধরে নিপীড়নের শিকার হচ্ছি। ১২-১৩ বছর আগে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে দলের মধ্যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, তাঁর মূল লক্ষ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ও দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আপাতত কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা করিনি। আমাদের একমাত্র ইচ্ছা বাংলায় শিল্প স্থাপন এবং মানুষের উন্নয়ন।”
তৃণমূলের গভীর সংকট:
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থা ক্রমশই শোচনীয় হয়ে উঠছে। ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিধানসভার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দলের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। একের পর এক বড় নেতার দলত্যাগ তৃণমূলের ইতিহাসে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্ব ও দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।