রাঁচিতে নারকীয় গণধর্ষণ! বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নদীর তীরে পাশবিক অত্যাচার, পলাতক ৭

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচির মান্দার থানা এলাকায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, সাতজন যুবক মিলে ওই তরুণীকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। শনিবার সকালে অভিযুক্তরা তরুণীকে ছেড়ে দিলে তিনি বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

কী ঘটেছিল সেই রাতে?
অভিযোগকারিণীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত দুই বছর ধরে ওই গ্রামেরই এক যুবকের সাথে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। প্রায় দেড় মাস আগে তাঁর সঙ্গী কাজের সূত্রে কেরালায় চলে যান। গত শুক্রবার তরুণী বাড়িতে একাই ছিলেন। অভিযোগ, সেই সুযোগেই গ্রামের কিছু যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে সাতজন যুবক মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। পরদিন সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের ভূমিকা:
তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে মান্দার থানায় সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তরুণীকে ডাক্তারি পরীক্ষার (Medical Examination) জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তকারী বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চলছে।

ঝাড়খণ্ডে নারী সুরক্ষার প্রশ্ন:
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি লাতেহার জেলাতেও এক তরুণীকে বিয়ের অনুষ্ঠানে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল, যেখানে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। একের পর এক এমন ঘটনায় ঝাড়খণ্ডে নারী নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমানসে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠছে।

মান্দারের এই ঘটনায় অভিযুক্তরা যাতে কোনোভাবেই পার না পায়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে ভুক্তভোগীর জবানবন্দি ও মেডিকেল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।