ফের বাড়ল LPG গ্যাসের দাম! জেনে নিন আপনার শহরে সিলিন্ডারের নতুন দর

ফের অগ্নিমূল্য রান্নার গ্যাস। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং ইরান সংকটের জেরে আবারও দাম বাড়ানো হলো ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের। ৭ জুন, রবিবার থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দামে প্রতিটি সিলিন্ডারে ২৯ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। শেষ তিন মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেল, যা সাধারণ মানুষের হেঁশেলের বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
একনজরে সিলিন্ডারের নতুন দাম
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দাম বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন শহরে সিলিন্ডারের দাম নিম্নরূপ:
-
কলকাতা: ৯৬৮ টাকা (আগের দাম ৯৩৯ টাকা)।
-
দিল্লি: ৯৪২ টাকা (আগের দাম ৯১৩ টাকা)। (উল্লেখ্য, অঞ্চলভেদে কর ও অন্যান্য কারণে এই দাম সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।)
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৭ মার্চ পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা করে দাম বাড়িয়েছিল কেন্দ্র।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডার ও অন্যান্য জ্বালানির ওপর প্রভাব
শুধু গার্হস্থ্য রান্নার গ্যাস নয়, মাসের শুরুতেই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ানো হয়েছে। জুন মাসের প্রথম দিনেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম কলকাতা ও দিল্লিতে প্রায় ৪২ থেকে ৫৩.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসায় রান্নার খরচ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।
পাশাপাশি, পেট্রোল ও ডিজেলের দামও গত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। লিটার প্রতি প্রায় ৭.৫০ টাকা এবং সিএনজি (CNG)-র দাম কেজি প্রতি প্রায় ৬ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহণ খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া হয়ে উঠছে।
কেন বারবার বাড়ছে দাম?
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম হু-হু করে বাড়ার কারণে সরকারি তেল সংস্থাগুলো প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রিতে বড় অংকের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির অনুমান, প্রতি এলপিজি সিলিন্ডারে তাদের প্রায় ৭০৩ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। এই বিশাল ঘাটতি মেটাতেই সরকার ফের রান্নার গ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে।
একের পর এক জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির সঞ্চয় তলানিতে ঠেকেছে। মাসের বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সম্পাদকীয় নোট: ইরান-পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের বাজারে এই অস্থিরতা আপাতত কমার কোনো লক্ষণ নেই, যা আগামী দিনে নিত্যপণ্যের বাজারকে আরও প্রভাবিত করতে পারে।