‘চোর চোর’ স্লোগান জনতার, তোলাবাজি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার TMC কাউন্সিলর

রাজ্যে একের পর এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়ে যখন শাসকদল অস্বস্তিতে, ঠিক সেই সময়েই পাটুলি থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন কলকাতা পুরসভার ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তোলাবাজি ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে মারধরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
শনিবার সন্ধ্যার দিকে প্রথমে কাউন্সিলর ঘনিষ্ঠ যুব নেতা সৌরভ ঘোষকে আটক করে পুলিশ। তাঁকে জেরা করার পরেই তদন্তকারীরা বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের নাম পান। এরপরই শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয় এই তৃণমূল নেতাকে।
গ্রেফতারের খবর চাউর হতেই স্থানীয় মানুষ পাটুলি থানার সামনে ভিড় জমান। কাউন্সিলরকে থানায় আনার সময় জনতার একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর, চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্থানীয়দের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় কার্যত ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বাপ্পাদিত্য। জোর করে টাকা তোলা এবং প্রতিবাদ করলে মারধর করাই ছিল তাঁর রুটিন।
কে এই বাপ্পাদিত্য?
রাজনৈতিক মহলে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত মূলত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরেই তাঁর তৃণমূলে হাতেখড়ি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, তৃণমূলে আসার আগে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন, এরপর ২০২১ সালেও জয়ী হন। কিন্তু দ্বিতীয়বার জেতার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি বাড়তে শুরু করে।
শাসকদলে কি অস্বস্তি বাড়ছে?
গত এক সপ্তাহে কলকাতা ও শহরতলিতে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন। এর আগে রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল। সব মিলিয়ে গত সাত দিনে প্রায় ৬ থেকে ৭ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারি শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পাটুলির এই ঘটনায় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ যে বড় আকারে ফেটে পড়ল, তা থানার সামনে জনতার উপস্থিতি ও স্লোগান থেকেই স্পষ্ট। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে তোলাবাজি চক্রের বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।